সংবাদ শিরোনাম

বন্দিদশা থেকে বৃদ্ধকে উদ্ধার করলেন ইউএনও নিকারুজ্জামান

সংবাদকর্মীর ফেসবুক স্ট্যাটাস

সংবাদকর্মী ওয়াহিদুর রহমান রুবেলের ফেসবুক স্ট্যাটাসের পর শিখলবন্দি অসহায় অবস্থা থেকে এক বৃদ্ধকে উদ্ধার করেছে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান চৌধুরী। সোমবার দুপুর একটার দিকে তিনি পুত্রের বাড়ি থেকে তাকে মুক্ত করেছেন বলে নিশ্চিত করা হয়।

হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজারের উখিয়া রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং এলাকায়।

উদ্ধার হওয়া বৃদ্ধের নাম শামসু ফকির। তাকে দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বন্ধ করে রাখতেন পুত্র জসিম উদ্দিন।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) শিখলপরা অবস্থার কয়েকটি ছবি নিয়ে হৃদয় বিদারক এক স্ট্যাটাস দেন সংবাদকর্মী ওয়াহিদুর রহমান রুবেল। এরপরই পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে।

ওয়াহিদুর রহমান রুবেল বলেন, আমি শুনতে পায় যে উখিয়ার টাইপালং এলাকায় পুত্রের দ্বারা বৃদ্ধ বাবাকে শিখল দিয়ে বন্দি করে রাখা হয়েছে। এ সংক্রান্ত কয়েকটি ছবিও পায়। এ বিষয় নিয়ে আমি টাইপালং এলাকায় যোগাযোগ করি। শুরুতে আমাকে যে তথ্য দেয়া হয়েছিলো তা অত্যান্ত ভয়ানক ও বেদনা বিদুর। উক্ত তথ্যের উপর আমি দ্রুত একটি স্ট্যাটাস দিই। এরপরই এটি ভাইরাল হয়ে পড়ে। একই সাথে ঢাকায় আমার কয়েকজন বন্ধু ছবিগুলো পেয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করে। এমনকি সরকারের একজন মন্ত্রী সরাসরি বিষয়টি হস্তক্ষেপ করে। অবশ্য পরে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে আমার সাথে যোগাযোগ করে জানান যে, তিনি মানুষিক রোগী বা পাগল। কিন্তু পাগল হলে শিখল দিয়ে বন্দি করা যায় কিনা তার কোন সুদ্দোত্তর দিতে পারেন নি তারা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টাইপালং এলাকার বৃদ্ধ শামসু ফকিরকে শিখলবন্দি অবস্থার ছবি প্রকাশ পায়। এটি দ্রুত দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থান থেকে আমার কাছে ফোন আসে। খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে আমার অফিসে নিয়ে আসি। এ সময় তাকে গোসল করিয়ে খাবার দেয়া হয়। পরে তাকে চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

বৃদ্ধের স্ত্রীর ভাই গফুর মিয়া চৌধুরী বলেন, তিনি দীর্ঘদিন মানুষিক রোগে আক্রান্ত। বিভিন্ন সময় পাগলামি করে থাকেন। রাস্তাঘাটে ছেলে মেয়েদের মারধর করেন। অন্যের বাড়িতে ঢিল ছুঁড়ে মারেন। নিজের বাড়িতে আগ্নি সংযোগ করতে অপচেষ্টা করেন। এ অবস্থায় নিরুপায় হয়ে ছেলেরা তাকে বেঁধে রেখেছেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, আমি শুনেছি তিনি পাগল। তাই ছেলেরা তাকে বেঁধে রেখেছে। তবে এভাবে বেঁধে রাখবে তা কল্পনা করা যায় না।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ তিনি কখনো মানুষিক রোগী ছিলেন না। ছেলেদের নির্যাতনে তিনি পাগল হয়েছেন।

এ্যাডভোকেট বাপ্পী শর্মা জানান, পাগল হলেও শিখল পরিয়ে রাখতে পারবেন না। এটি আইনত অপরাধ। তারা অসুস্থ পিতার সুস্থতার জন্য চিকিৎসা সেবা দিতে পারেন। অথবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে পাগলাগারে রাখা যেতে পারে।

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী