সংবাদ শিরোনাম

চার্জশীট থেকে শীর্ষ ইয়াবা কারবারির নাম উধাও

অনলাইন ডেস্ক : বার বার ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে ইয়াবা কারবারি ফজল কাদের। ইয়াবা সহ আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে একাধিকবার ধরা পড়লেও রহস্যজনক কারণে পার পেয়ে যাচ্ছে সে। সর্বশেষ আলোচিত একটি ইয়াবা মামলা থেকে তার নাম বাদ পড়ে যাওয়া স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। অবশ্যই সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ বলছেন, অভিযুক্ত ফজল কাদের একজন চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি হলেও এই মামলায় তিনি জড়িত নয়। আইন শৃংখলা বাহিনীর এক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পেঁচারদ্বীপ (মাঙ্গালাপাড়া) এলাকায় মেরিন ড্রাইভ রোডে কক্সবাজারমুখি একটি সিএনজি ধাওয়া করে র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা। যৌথ অভিযানে ওই সিএনজি তল্লাশী করে ৩৯ হাজার ৬শ’ পিস ইয়াবা, একটি মোবাইল সেট ও ২৫০০ টাকা জব্দ করা হয়। এসময় উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানী নুরার ডেইল গ্রামের ছৈয়দ হোসাইনের ছেলে আহমদ শরীফ (৪২) কে আটক করা হয়। আটক আহমদ শরীফ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে যৌথ বাহিনীকে জানিয়েছেন, জব্দ হওয়া ইয়াবা গুলো উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ডেইলপাড়া গ্রামের মৃত আজিজুর রহমানের ছেলে ফজল কাদেরের বাড়ি থেকে এসব ইয়াবা কক্সবাজার নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

সে আরও জানিয়েছেন, ইতিপূর্বেও ফজল কাদের ও তার স্ত্রীর কাছ থেকে অসংখ্যবার ইয়াবার চালান কক্সবাজার নিয়ে গেছে। তার স্বীকারোক্তি মতে র‌্যাব কর্মকর্তা মো: আজিজুল করিম বাদি হয়ে রামু থানায় একটি মামলা নং (০২/৩২১) দায়ের করেন। পরে ওই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেন রামু থানার এসআই কিশোরকে। এসআই কিশোর মামলার দায়িত্বভার নিয়ে দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর কক্সবাজার আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন রামু থানা পুলিশ। ওই তদন্ত প্রতিবেদনে ইয়াবা সহ আটক আহমদ শরীফ ও ফজল কাদেরের শাশুড়ি আমিনা খাতুনের নাম থাকলেও বরাবরের মত রহস্যজনক কারণে নব্য ইয়াবা ডন ফজল কাদেরের নাম বাদ পড়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে তার সেকেন্ট ইন কমান্ড উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের দক্ষিন সোনারপাড়া গ্রামের মাষ্টার জাকের হোসেনের ছেলে লুৎফর রহমানের মধ্যস্থতায় ইয়াবা কারবারের মামলা থেকে ফজল কাদেরের নাম বাদ দিয়ে দেয় পুলিশ।
জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা রামু থানা পুলিশের এসআই কিশোর বলেন, ‘মামলা এজাহারে ফজল কাদেরের সুনির্দিষ্ট নাম উল্লেখ নেই। তবে ইয়াবা গুলো ফজল কাদেরের বাড়ি থেকে তার শাশুড়ির কাছ থেকে নিয়ে আসছিল বলে আটক আহমদ শরীফ যৌথ বাহিনীর কাছে স্বীকার করেছেন। সুতরাং ফজল কাদের জড়িত না থাকার বিষয়টি পরিস্কার। একইভাবে আসামীর পক্ষ থেকে কোন ধরণের সুবিধা আদায় করা হয়নি’। রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আবুল মন্ছুর বলেন, ‘ইয়াবা নিয়ে আটক ওই মামলার আসামী আহমদ শরীফ স্বীকারোক্তি দিয়েছেন উদ্ধার হওয়া ইয়াবা গুলো উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ডেইলপাড়া গ্রামের মৃত আজিজুর রহমানের শাশুড়ি থেকে নিয়ে আসছিল। সুতারাং আমরা তার শ^াশুড়িকে মামলার চার্জশীটে অন্তর্ভূক্ত করেছি। এছাড়াও আমার বাড়ি তাদের এলাকায় না। আমি জানবো কিভাবে ফজল কাদের ইয়াবা ব্যবসায়ী নাকি ডাকাত? এগুলো আমার দেখার বিষয় নয়। সেটি দেখবে উখিয়া থানার পুলিশ’।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘ এমন তো হওয়ার কথা নয়! বিষয়টি আমি দেখছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি’।

এদিকে, যোগাযোগ করা হলে উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের ছুটিতে থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ (তদন্ত) নুরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে যতটুকু জেনেছি ফজল কাদের একজন ইয়াবা কারবারি।তবে তার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। এরপরও আমরা তাকে ধরার চেষ্টা করছি। এছাড়াও চলমান মাদক বিরোধি অভিযানে উখিয়ার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ও মাদকের চালান আটক করছে পুলিশ। ইয়াবা পাচারে সাধারন মানুষ জড়িয়ে পড়ায় শত চেষ্টা করেও ইয়াবা প্রতিরোধ করা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে’। একদিকে, ইয়াবা ও মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো ট্রলারেন্সে আইন শৃংখলা বাহিনীর নিরলস প্রচেষ্টা, অন্যদিকে একজন চিহ্নিত ইয়াবা কারবারির নাম মামলা থেকে বাদ দেয়ায় বিস্মিত হয়েছেন স্থানীয়দের অনেকে। তাই কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী