সংবাদ শিরোনাম

যে কারণে বাজেট শতভাগ বাস্তবায়ন হয় না

প্রতিবছরই দেশে বাজেটের আকার বাড়ছে। কিন্তু শতভাগ বাজেট বাস্তবায়িত হচ্ছে না। শেষ প্রান্তিকে এসে বাজেট সংশোধন করা হয়। কোনো কোনো বছর সংশোধিত বাজেটও বাস্তবায়িত হয় না। বাজেট উপাত্ত পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতিবছর গড়ে মূল বাজেটের ৮০ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়। সরকারের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা এবং বাজেট শৃঙ্খলা বজায় না থাকার কারণে বাজেট বাস্তবায়ন পুরোপুরি হচ্ছে না।

এ পরিপ্রেক্ষিতে অর্থবছরের শুরুতেই বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, যথাযথ বাস্তবায়ন ও নিয়মিত পরিবীক্ষণের জন্য প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। সে লক্ষ্যে একটি নীতিমালাও তৈরি করা হয়েছে। প্রত্যেক কোয়ার্টার বা প্রান্তিক শেষ হওয়ার পরবর্তী এক মাসের মধ্যে নীতিমালায় সংযুক্ত ফরম ব্যবহার করে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে তাদের বাজেট বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ প্রতিবেদন অর্থ বিভাগে পাঠাতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যে বাজেট বাস্তবায়নে যেসব বাধা আছে তা চিহ্নিত করেছে অর্থ বিভাগ। বাধাগুলোকে দুটি ভাগে দেখিয়েছে।

একটির মধ্যে উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন; আরেকটি রাজস্ব বাজেট বাস্তবায়ন। উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নে যেসব প্রতিবন্ধকতার কথা বলা হয়েছে এর মধ্যে যথাসময়ে ভূমি অধিগ্রহণ সমস্যা, প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা, বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্প অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা, প্রকল্প দলিলের অসম্পূর্ণতা ও বারবার প্রকল্পের নকশা পরিবর্তন বা সংশোধন।

অন্যদিকে রাজস্ব বাজেট বাস্তবায়নের পথে যে তিনটি বাধা চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলো হলো অর্থ ছাড়ে দেরি হওয়া, জনবল নিয়োগে জটিলতা ও সময়মতো নিয়োগ না হওয়া এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অধীনে সুবিধাভোগী নির্বাচনে বিলম্ব। অর্থ বিভাগের পর্যবেক্ষণে এসেছেÑ ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় বাজেট বাস্তবায়নের হার ৮৪ দশমিক ৫ থেকে ৯২ দশমিক ৮ শতাংশের মধ্যে।

আর এডিপির ব্যয় ছিল ৮৯ দশমিক ৯ থেকে ৯৩ শতাংশ। অর্থ বিভাগের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছেÑ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বাজেট বাস্তবায়ন সাধারণত অর্থবছরের প্রথমার্ধে ধীরগতিতে চলে। অর্থবছরের শুরুর দিকে বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে যেমন ধীরগতি পরিলক্ষিত হয়, তেমনই বেতনভাতা ছাড়া অন্যান্য আইটেমের বিপরীতে ব্যয়ের পরিমাণও কম থাকে।

বিশেষত বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, মেরামত ও সংরক্ষণ, নির্মাণ ও পূর্ত এবং মালামাল ক্রয়/সংগ্রহের ক্ষেত্রে অর্থবছরের শেষ দিকে পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সরকারি ব্যয়ের গুণগতমান নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। উপরন্তু বছর শেষের দিকে সরকারকে অপরিকল্পিত ঋণের দায়ভার নিতে হয়। ফলে বাজেট শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা যায় না।শেয়ার ফেসবুক

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী