সংবাদ শিরোনাম

পাচারের টার্গেটে রোহিঙ্গা নারীরা

দেশের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি বিদেশেও পাচার হচ্ছে রোহিঙ্গা নারী। একশ্রেণির অসাধু চক্র কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক সিন্ডিকেট গড়ে তুলে রোহিঙ্গা নারীদের দেশে এবং বিদেশে পাচার করে যাচ্ছে। বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাছে এ সংক্রান্ত তথ্য থাকলেও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকায় ওই চক্রকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছিল না। তবে শুক্রবার ঢাকা বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ পাচারকারী চক্রের মূলহোতা কুতুপালং ডি-৪ ব্লকের বাসিন্দা মৌলানা শামসুল আলমকে (৫১) গ্রেফতার করে। সে ভুয়া পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশে-বিদেশে যাওয়া-আসা করত।
সূত্র জানায়, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নারীদের একশ্রেণির পেশাদার পাচারকারী চক্র মাসিক বেতনে চাকরির কথা বলে ক্যাম্প থেকে দেশে ও দেশের বাইরে পাচার করে যাচ্ছে। বিদেশ নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশে পাসপোর্ট করতে গিয়ে গুটি কয়েক রোহিঙ্গা নারী দালাল গ্রেফতার হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধরাছোঁয়ার বাইরে কার্যক্রম চালাচ্ছিল এ সিন্ডিকেট। জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল চট্টগ্রাম থেকে শরীয়তপুরে পাসপোর্ট করতে এসে পুলিশের কাছে ধরা পড়েছে রোহিঙ্গা মা ও মেয়ে। এরা হলো মিয়ানমারের মৃত সাব্বিরি আহম্মেদের স্ত্রী নুরহাবা (৫৫) ও তার মেয়ে খালেদা আক্তার (১৯)। পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সময় শরীয়তপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসার আবেদনকারী খালেদাকে ডেকে কথা বলতে গিয়ে কথাবার্তায় রোহিঙ্গা বলে সন্দেহ হয়। এরপর তাকে বসিয়ে রেখে পালং থানার পুলিশকে খবর দেন তিনি। পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে তাকে আটক করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে খালেদা নিজেকে রোহিঙ্গা বলে স্বীকার করে নেয়।
খালেদা পুলিশের কাছে জানায়, সানোয়ারুল ইসলাম ও নুরে আলম নামে দুই দালাল পাচারের উদ্দেশে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে চট্টগ্রাম থেকে তাদের শরীয়তপুরে নিয়ে আসে। এ ঘটনার পরে অভিযুক্ত দুই দালাল সটকে পড়ে। খালেদার মা নুরহাবাকে সোমবার রাতে আটক করে পালং মডেল থানা-পুলিশ। এ ছাড়া গত ১৫ এপ্রিল আশ্রয় শিবির থেকে পালিয়ে গাজীপুরে পাসপোর্ট করতে গিয়ে আটক হয়েছে আরেক রোহিঙ্গা নারী। তার নাম ফারিয়া মীম (২৭)। মিয়ানমারের নাগরিক ফারিয়া মীম কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকে। তার বাবার নাম মঞ্জু শেখ ও মায়ের নাম পারভীন বেগম।
গত তিন মাসে বিভিন্ন জায়গায় পাসপোর্ট করতে গিয়ে ৩০ জনের অধিক রোহিঙ্গা নাগরিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয় বলে জানা গেছে। এর মধ্যে কক্সবাজার থেকে আসা রোহিঙ্গাই ২০ জনের অধিক। এভাবে বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে বিদেশের প্রলোভন দেখিয়ে রোহিঙ্গা নারীদের পাচার করে যাচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র। তবে তারা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মো. নুরুল ইসলাম মজুমদার জানান, এ সিন্ডিকেটের কোনো সদস্যকে চিহ্নিত করতে পারলে সে যত শক্তিশালীই হোক না কেন ছাড় দেওয়া হবে না। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, ক্যাম্পের ভেতরে নারী পাচারকারী সক্রিয় নেই তা বলা যাবে না। একটি গ্রুপ সবসময় খারাপ কাজের সুযোগে থাকে। কিন্তু আমরা সজাগ রয়েছি। বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী