সংবাদ শিরোনাম

ভারতে মোদি হাওয়ার শেষ পরীক্ষা আজ

পরীক্ষার শুরুটা হয়েছিল এক মাসেরও বেশি সময় আগে। এরপর একে একে শেষ হয়ে গেছে লোকসভার ছয় ধাপের ভোট। আজ রোববার সপ্তম ও শেষ ধাপের লড়াই। মোদি হাওয়ায় ভর করে কট্টর হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি আরেকবার ক্ষমতায় যাবে কিনা তার শেষ পরীক্ষা। প্রথম ছয় ধাপের ভোটেই অবশ্য সেটা স্পষ্ট হয়ে গেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে যে মোদি হওয়ার বাড়বাড়ন্ত ছিল এবার তা পড়তির দিকে।

ৱইন্ডিয়া টুডের বুথ ফেরত জরিপেও দেখা গেছে তারই আভাস। জরিপের ফলাফলে উঠে এসেছে, ৫৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে গতবারের থেকে ১৭৭টি আসন কমছে এনডিএ তথা বিজেপি জোটের। তারা পেতে চলেছে ১৭৭টি আসন। আর গতবারের তুলনায় ৭৬টি আসন বেড়ে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট পেতে যাচ্ছে ১৪১টি আসন। অন্যান্য দল ২২৪টি আসন পেতে চলেছে।

টেলিভিশনের পর্দায় ভেসে ওঠা এই পরিসংখ্যান ভিডিও আকারে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিক হয়ে যেতেই নড়েচড়ে বসেছে বিজেপি ও প্রধান বিরোধী কংগ্রেস। যেখানে শেষ দফা ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ পশ্চিম বাংলায় এসে জনসভা থেকে ‘আসন সংখ্যা ৩০০ পার হয়ে গিয়েছে’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন, সেখানে এই ফলাফল ফাঁস হয়ে যাওয়ায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ষষ্ঠ ধাপের পর এবার হিমাচলপ্রদেশ, পাঞ্জাব, চণ্ডীগড়ের পাশাপাশি বিহারের ৮টি, ঝাড়খণ্ডের ৩টি, মধ্যপ্রদেশের ৮টি, উত্তরপ্রদেশের ১৩টি এবং পশ্চিমবঙ্গের ৯টি আসনে ভোট বাকি। এ ধাপেই উত্তরপ্রদেশের বারানসি আসনে ভাগ্য নির্ধারণ হবে মোদির। আটটি রাজ্যের ৫৯টি আসনে ভালো ফল করতে এখন মরণ কামড় দিতে প্রস্তুত সব দলই। শেষ ধাপে মূলত পরীক্ষায় বসতে চলেছেন মোদি। শুরু থেকে দুটি আসনে লড়ার জল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত শুধু বারানসিকেই বেছে নেন তিনি। প্রিয়াংকা গান্ধী সরে আসায় কাশী জয় এক রকম নিশ্চিত হয়ে গেছে তার। তারপরও প্রচারণার কমতি রাখেননি তিনি।

লোকসভার অন্তত ছয় মাস আগে লড়াইটা শুরু করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যে করেই হোক আরেকবার ক্ষমতায় ফিরতে হবে- প্রথম থেকেই ছিল সেই তাগিদ। নিজের জয়, সেই সঙ্গে দলেরও। সে লক্ষ্যেই ঝাঁপিয়ে পড়েন প্রচারণার মাঠে। হাতে সেই পুরনো অস্ত্র- হিংসা, বিদ্বেষ আর বিভাজন। ভোটের এক মাসের মধ্যে একে একে প্রায় দেড়শ’ সভা-সমাবেশ-রোডশো করেছেন। বিরোধীদের ওপর শানিয়েছেন আক্রমণের পর আক্রমণ। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সপা-বসপা মহাজোট- একটার পর একটা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টা।

শেষ ধাপের আগে বারানসির কাশীতে বাবা বিশ্বনাথের মন্দিরে মাথা ঠেকিয়ে আরও একবার দেশসেবার সুযোগ পাওয়ার প্রার্থনা করেছেন তিনি। পুজো দিয়ে বিজেপির সভাপতি অমিত শাহও। সেই সঙ্গে দৃঢ় নির্দেশ, বারানসি লোকসভা কেন্দ্রের একটা বুথেও যেন মোদি পিছিয়ে না থাকেন। সব বুথে এক নম্বরে থাকাই শুধু নয়। এমন ভোট এবার করতে হবে যাতে মোদির মার্জিন ৭ লাখ ছাড়িয়ে যায়। সাত লাখ মার্জিনে বারানসি থেকে কেন, গোটা উত্তরপ্রদেশেই কেউ কখনও জেতেনি! ব্যবধান বাড়ানোর এই লড়াই এবার উত্তরপ্রদেশের ভোটের নতুন আকর্ষণ।

বারানসি লোকসভা কেন্দ্রে মোট বুথের সংখ্যা ১ হাজার ৮০০। গতবার এই কেন্দ্রে মোদির জয়ের মার্জিন ছিল ৩ লাখ ৭১ হাজার। আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল পেয়েছিলেন ২ লাখ ভোট। এবার মাঠ প্রায় ফাঁকা হলেও ব্যবধান ৭ লাখ করার অর্থ গতবারের চেয়ে ভোট পেতে হবে প্রায় দ্বিগুণ। জোট প্রতিপক্ষ নেই বললেই চলে। অখিলেশ বা মায়াবতী কেউই তাই বারবার বারানসি যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি। জোটের হয়ে একটাই সভা তারা করলেন বৃহস্পতিবার দুপুরে। করতে হয় তাই করা। লড়াইটা বলতে গেলে কংগ্রেসের সঙ্গেই। প্রিয়াংকা এখান থেকেই প্রচার শুরু করেছিলেন। এই শেষবেলায় গত বুধবার তিনি আরও একবার রোডশো করলেন মন্দির নগরীতে।

উত্তরপ্রদেশে বারানসির পাশাপাশি ভোট হচ্ছে আরও ১২টি আসনে। এর মধ্যে রয়েছে মহারাজগঞ্জ, গোরখপুর, কুশিনগর, দেউড়িয়া, বাশগাঁও, ঘোষি, সালেমপুর, বালিয়া, গাজিপুর, চানদৌলি, মির্জাপুর ও রবার্টসগঞ্জ। গোরখপুর থেকে লড়ছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, গাজিপুর থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোজ সিনহা ও চানদৌলি থেকে লড়ছেন রাজ্যের বিজেপিপ্রধান মহেন্দ্র নাথ পাণ্ডে। লোকসভা ভোটের আগে মোদি নিজেও বারবার বলেছেন, ‘পাটীগণিত নয়, রসায়নই ভোটের ফল নির্ধারণ করবে।’ কিন্তু এবার মায়াবতী-অখিলেশের জোট হয়ে যাওয়ার পর পাটীগণিত অনেকটাই বিজেপির বিপক্ষে। ষষ্ঠ ধাপের ভোটের পর শুধু উত্তরপ্রদেশ নিয়েই বিরোধী শিবিরের দাবি, ১৪টির মধ্যে অন্তত ১০টি পাবে এসপি-বিএসপি জোট।

বিজেপি নেতাদেরই একাংশ কবুল করছেন, উত্তরপ্রদেশে ৩০টি আসন হাতছাড়া হতে পারে। যদি তাই হয়, সেক্ষেত্রে বিজেপির দাবি অনুযায়ী আসন বাড়বে কোথা থেকে? সে প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। গত ভোটে গুজরাট, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড়ের মতো রাজ্যগুলোতে রেকর্ডসংখ্যক আসন পেয়েছিল বিজেপি। বর্তমানে কংগ্রেসশাসিত তিনটিসহ ওই রাজ্যগুলোতে এবার আর তত আসন পাওয়া যাবে না বলে ধরেই নিচ্ছে তারা। ভরসা তাই পূর্ব ও উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলো।

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী