সংবাদ শিরোনাম

কার্ড হালনাগাদ না হাওয়ায় বঞ্চিত জেলেরা

উপকূলে সরকারি সহায়তা পাচ্ছে না অনিবন্ধিত জেলেরা। জেলে কার্ড হালনাগাদ না হাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান সচেতন মহল। এ কারণে প্রকৃত জেলেরা সহায়তা থেকে বাদ পড়ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

তারা বলছেন, জেলায় নিবন্ধিত জেলেদের অধিকাংশই অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন। ভিন্ন পেশায় থাকলেও নিবন্ধিত হওয়ায় ত্রাণ সহায়তা পাবেন এসব জেলেরা। যার ফলে সহায়তার আওতায় আসছে না অনিবন্ধিত অসংখ্য জেলে। এতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে অঘোষিতভাবে অনিবন্ধিত জেলেদের তালিকা করলেও এ ব্যাপারে কোন অফিস আদেশ নেই বলে জানালেন কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান।

সাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ হওয়ায় নিবন্ধিত জেলেরা ত্রাণ সহায়তা হিসাবে ঈদের আগেই পাচ্ছেন ৪০ কেজি চাউল। পরের মাসে পাবেন আরো ৪০ কেজি করে চাউল। সহায়তার চাউল নিবন্ধিত জেলেদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও ওই জেলেদের অধিকাংশই ভিন্ন পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন।

মহেশখালীর কুতুবজুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন খোকন জানিয়েছেন, কুতুবজুমে ৫ হাজারের অধিক জেলে নিবন্ধনের আওতায় আসেনি। আবার নিবন্ধন হয়েছে এমন অর্ধেকেরও বেশি জেলে এখন পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন। কেউ চালাচ্ছেন টমটম, সিএনজি ও রিকশা, আবার অনেকেই এলাকায় নাই ভিন্ন এলাকায় গিয়ে ব্যবসা করছেন। জেলের পরিচয়পত্র সুত্রে সহায়তার আওতায় আসছেন এরা।  আমরা চাই যারা প্রকৃত জেলে তারাই নিবন্ধনের আওতায় আসুক। পেশা পরিবর্তন হলে নিবন্ধন বাতিল করা হউক।

কুতুবদিয়া আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুচ্ছফা বিকম জানিয়েছেন, তালিকা নিয়ে আমরা সমস্যায় আছি। নিবন্ধনের বাইরে অসংখ্য জেলে রয়েছে। যারা সহায়তা পাচ্ছেন না। এছাড়া নিবন্ধিত জেলেদের অধিকাংশেরই এখন হদিস নেই। সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধ হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এক পক্ষ আর সরকারি সহায়তা নিবেন নিবন্ধনের সুবিধাধারীরা। যার ফলে আমরা বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছি।

মাতারবাড়ির ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ জানিয়েছেন, অসংখ্য জেলের নিবন্ধন হয়নি। এতে শুধুমাত্র নিবন্ধিতরা সহায়তা পেলে অন্য জেলেরা মনক্ষুন্ন হবে। যার ফলে আমরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে আছি। আমরা চাই নিবন্ধিতদের পাশাপাশি অনিবন্ধিতদেরও সহায়তার আওতায় আনা হউক।

কক্সবাজারের ফিশিং ট্রলার মালিক জয়নাল আবেদীন সওদাগর জানিয়েছেন, কক্সবাজার জেলায় ছাড়া ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা অন্য কোথাও তেমন মানা হচ্ছে না। দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ ট্রলার এখন মাছ ধরতে সাগরে নেমে পড়েছে। কিন্তু কক্সবাজারের ফিশিং ট্রলার মালিকরা নির্দেশনা মেনে চলেছেন এরপরও প্রকৃত জেলেরা সহায়তার আওতায় আসছেনা তা দুঃখজনক।

ফিশিং ট্রলার মালিক ও ফিশিং ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়ন সুত্রে জানা যায়, তাদের হিসাব মতে জেলায় জেলের সংখ্যা রয়েছে প্রায় ৯৫ হাজার। এতে নিবন্ধন হয়েছে মাত্র ৪৮ হাজার ৩৯৩ জন। বিপুল সংখ্যক জেলে নিবন্ধন হয়নি। এছাড়া কোন দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে নিবন্ধিতরাই সরকারি সহায়তার আওতায় আসেন।

শ্রমিক নেতা আবদুল হালিম জানিয়েছেন, নিবন্ধন হলে সকল জেলেকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে। অন্য পেশায় গেলে তাদের জেলে কার্ড বাতিল করতে হবে। থাকবে অন্য পেশায় সুবিধা নিবে জেলে হিসাবে তা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা চাই সকল জেলেই সহায়তার আওতায় আসুক।
মহেশখালীর ইউএনও জামিরুল ইসলাম বলেছেন, নিবন্ধিত জেলেদের সহায়তার পাশাপাশি অনিবন্ধিতদের সহায়তার প্রস্তাব উচ্চ পর্যায়ে পাঠানো হবে। সকল ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত জেলে যাতে সহায়তা পায় এজন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী