সংবাদ শিরোনাম

জেলা শহরে মিনারেল পানিতে জেনারেল প্রতারণা

জনস্বাস্থ্য চরম হুমকিতে

ডেইলি কক্সবাজার : কক্সবাজারে নিরাপদ খাবার পানির নামে অবৈধ ব্যবসায় মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য।

শহরে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনক হারে নেমে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে শহরের বিভিন্ন স্থানে নলকূপের পানিতে লবণাক্ততা বেড়েছে। অপরিকল্পিতভাবে গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি তোলার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এহেন পরিস্থিকে লুফে নিয়েছে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ি।

কক্সবাজারের বিভিন্ন বাসাবাড়িসহ হোটেল রেস্তোরা ও টি-স্টল সমূহে মিনারেল ওয়াটারের নামে চলছে প্রতারণা। জীবানুযুক্ত পানি শ্লোগান দিয়ে নামে-বেনামে স্টিকার লাগিয়ে সদর্পে বাজারজাত করে আসছে ভুয়া কোম্পানীরগুলো।

নামে- বেনামে বিভিন্ন কোম্পানীর মিনারেল ওয়াটারের লেবেল লাগানো প্লাস্টিক জার থেকে সরবরাহকৃত এসব পানি আসলে মিনারেল ওয়াটার নয়, বরং জেনারেল পানি এমন অভিযোগ অনেকের।

কর্তৃপক্ষ জীবানুযুক্ত পানি নিয়ে বিশুদ্ধতার ফোঁটা শ্লোগান দিয়ে নামে বেনামে স্টিকার লাগিয়ে সরবরাহ করে আসছে। রির্ভাস অসমোসিস পদ্ধতির মাধ্যমে পরিশোধিত ও আল্ট্রাভায়োলেটেড’র মাধ্যমে জীবানুমুক্ত এবং ওজোন টেকনোলজির মাধ্যমে পানি বিশুদ্ধ করার কথা বলা হয়। হরেক রকমের স্টিকার লাগিয়ে ৭’শ টাকা জামানত এবং প্রতি জার পানির দাম ৫০/৬০ টাকা করে আদায় করে আসছে।

এভাবেই এক পানির কোম্পানী একজন অক্ষর জ্ঞানহীন যুবক দিয়ে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে জীবানুযুক্ত পানি বোতলজাত করে শহরের সহজ সরল মানুষের মাঝে টাকার বিনিময়ে সরবরাহ করে আসছে।

একটি চক্র কক্সবাজারে সাধারণ নলকুপের পানি গোপনে প্লাস্টিক জারে ভর্তি করার পরে হোটেলের খাবার টেবিলে সরবরাহ করে প্রতিগ্লাস পানির ২/৩ টাকা হারে দাম নিচ্ছে অসাধু কিছু হোটেল মালিক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ২০০৬ সালের শেষের দিকে কক্সবাজারে প্রথম মিনারেল ফিল্টার পানির ব্যবসা শুরু করে গুটি কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। বিএসটিআই ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই গজিয়ে উঠা এসব প্রতিষ্ঠান পানি বিশুদ্ধকরণ ও আলট্রা ভায়োলেট মেশিন দ্বারা জীবাণুমুক্তকরণ ছাড়াই উৎপাদিত পানি প্লাস্টিক জারে করে বাজারে সরবরাহ করে। প্রতিনিয়তে শহরের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত, বাসাবাড়ি ও হোটেল- রেস্তোরায় সাধারণ পানি সরবরাহ করে আসছে ওই চক্রটি।ওয়াটারক্যান, স্ট্যান্ড, প্লাস্টিকের জার ও পানির জন্য প্রথম পর্যায়ে ১০০০/১২০০ টাকা নেয়া হয়। জারের পানি ফুরিয়ে গেলে পরে পানি রিফিল করে দেয়ার জন্য প্রতিবার ৫০/৬০ টাকা হারে আদায় করা হয়। এসব পানি আসলে কতটুকু বিশুদ্ধ পানি বা মিনারেল ওয়াটার- সে প্রশ্ন ভোক্তাদের। একাধিক হোটেল রেস্তোরা মালিক সাধারণ নলকুপের পানি লেবেল লাগানো প্লাস্টিক জারে ভর্তি করে ফিল্টার পানি বলে বিক্রি করে আসছে।

কক্সবাজার শহরের হোটেল মোটেল এলাকার ব্যবসায়ি রহমত উল্লাহ বলেছেন, স্থানীয়সহ দেশী-বিদেশী পর্যটকরা জেনারেল-মিনারেল পানি পান করে প্রতারণার শিকার হচ্ছে।

শহরের নলকুপ মিস্ত্রী বাদশা মিয়া বলেন, কক্সবাজারের ভুগর্ভস্থ পানির মান খুবই উন্নতমানের। ২৫০-৩০০ ফুট নীচেই পাওয়া যায় ভাল বিশুদ্ধ পানি। অসাধু ভূঁইফোড় পানিওয়ালা কোম্পানী ও হোটেল-রেস্তোরার মালিক কমিশনের ভিত্তিতে এসব পানিকে বোতলজাত করে গলাকাটা দাম আদায় করে চলেছে।
অথচ গভীর নলকুপের পানি বিশুদ্ধ ও সুপেয়।

গবেষণায় এ সকল পানিতে দ্রবণীয় লবণ, সীসা, লোহার পরিমাণ বেশি পাওয়া যায়। কোনো কোনো পানিতে লেড, ক্যাডমিয়াম, কলিফর্ম ও জিংক উপাদানের অস্তিত্বও বিদ্যমান বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

পানি বিশেষজ্ঞ বলেছেন, কোনো মানুষ যদি ক্যাডমিয়ামযুক্ত নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের পানি নিয়মিত পান করেন, তবে তাদের শরীরে পুষ্টির অসমতা দেখা দিতে পারে। আর এর প্রতিক্রিয়ায় পানি পানকারী মানুষজন মারাত্মক ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন। অথচ নিরাপদ ভেবে দেশের মানুষ এ সব কোম্পানির পানি কিনে পান করে পেটের পীড়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

সুতরাং এই ‘বোতল পানির’ কাছে দেশের মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং এ অবস্থার পরিবর্তনের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী খাবার পানিতে সঠিক উপাদানগুলোর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না তা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের নিয়মিত মনিটর করা উচিত বলে আমরা গুরুত্ব আরোপ করছি।

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী