সংবাদ শিরোনাম

রোহিঙ্গাদের প্রবেশ : পোলিওর শঙ্কায় কক্সবাজার বান্দরবানে টিকা কর্মসূচি

নতুন করে পোলিও ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কায় কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে রোহিঙ্গা শিশুদের পোলিও টিকা খাওয়ানোর কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসায় এমন আশঙ্কা জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সম্প্রতি কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক একটি জরুরি বার্তা পাঠিয়েছেন।
ওই বার্তায় বলা হয়েছে, বিধিবহির্ভূতভাবে প্রবেশকারী মিয়ানমারের নাগরিকেরা টেকনাফের নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড ক্যাম্প ও আশপাশে লেদা, হ্নীলা ও শামলাপুর এবং উখিয়ার কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্প ও আশপাশে অবস্থান করছে। এদের মধ্যে ছোট ছোট

শিশু রয়েছে। এরা কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাংলাদেশের মূল জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। এর ফলে পোলিওসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ এ দেশের নাগরিকদের মধ্যে সংক্রমণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আলী হোসেন বার্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছোট ছোট অনেক শিশু এসেছে। পোলিও যেহেতু সংক্রামক, সেহেতু দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি।’

স্থানীয় সূত্রমতে, টেকনাফ ও উখিয়ার অনিবন্ধিত দুটি রোহিঙ্গা শিবিরে প্রায় ৫০ হাজার শিশু আছে। এদের একটি অংশ গত ৯ অক্টোবর রাখাইনে সেনা-পুলিশের অভিযান, অত্যাচার শুরু হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে পালিয়ে এসেছে।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন পু চ নু বলেন, পোলিও ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ১১ ডিসেম্বর থেকে উখিয়া, টেকনাফ ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে অবস্থানকারী সব শিশুকে পোলিও টিকা খাওয়ানো হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশমতে, ১১ ও ১২ ডিসেম্বর দুই দিনে সব রোহিঙ্গা শিশুকে পোলিও টিকা খাওয়ানো হবে। ১৪, ১৫ ডিসেম্বরও এ কার্যক্রম চলবে। পোলিও টিকা খাওয়ানোর জন্য টেকনাফ ও উখিয়ার ১১টি ইউনিয়নের ৯৯টি ওয়ার্ডে ৯৯টি এবং চারটির বেশি রোহিঙ্গা শিবিরে ৩০টির মতো মেডিকেল টিম সক্রিয় থাকবে।

সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্র বলেছে, ১০ ডিসেম্বর থেকে জাতীয় ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু হচ্ছে। ওই দিন পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানোর পাশাপাশি পোলিও টিকাও দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্র বলেছে, পোলিও ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় শুধু রোহিঙ্গা শিশু নয়, বাংলাদেশি শিশুদেরও, বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের টিকা খাওয়ানোর বিষয়ে ভাবছে তারা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০১৪ সালের মার্চে বাংলাদেশসহ ভারত, নেপাল, মিয়ানমার এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশকে পোলিওমুক্ত অঞ্চল ঘোষণা করে। বাংলাদেশে ২০০৭ সাল থেকে কোনো পোলিও রোগীর সন্ধান না পাওয়া গেলেও ভারতে এ রোগের অস্তিত্ব থাকায় তখন বাংলাদেশকে পোলিওমুক্ত ঘোষণা করা হয়নি।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ নুরুল আলম বলেন, মাছির মাধ্যমে খাবার থেকে পোলিও ভাইরাস শিশুদের দেহে প্রবেশ করে। এই ভাইরাস শিশুর স্নায়ুতন্ত্রকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। ফলে শিশুর মস্তিষ্ক ও পেশি অবশ হয়ে পক্ষাঘাত ঘটায়। পোলিও টিকা খাওয়ানোর মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সূত্র বলেছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বিধিবহির্ভূতভাবে ঢোকা মিয়ানমারের নাগরিকদের কারণে উদ্ভূত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস এবং বিধিবহির্ভূতভাবে প্রবেশ বন্ধের বিষয়ে কূটনৈতিকভাবে উদ্যোগ নিতে স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ গত মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে ৪০ শতাংশ শিশু। খালি পায়ে হাঁটলে মল থেকে পোলিও দ্রুত ছড়াতে পারে। যেহেতু রোগটি সংক্রামক, সেহেতু আমরা নমুনা সংগ্রহ করব। আমরা এখনো জানি না, রোগটি ছড়িয়েছে কি না। সে কারণে কিছু এলাকায় আমাদের শিশু, যাদের আগে টিকা খাওয়ানো হয়েছে, তাদেরও পুনরায় খাওয়ানো হবে।’

Editor- Sayed Mohammad SHAKIL.
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী