সংবাদ শিরোনাম

রামুর এইচ এম সাঁচি উচ্চবিদ্যালয় : ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, প্রাণের ভয় নিয়ে চলছে পাঠদান

বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনটি আড়াই বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না করায় হাজারো শিক্ষার্থীকে চরম ঝুঁকি নিয়ে ওই ভবনেই লেখাপড়া করতে হচ্ছে। ভবনের ছাদের পলেস্তরা ধসে বেশ কয়েকবার শিক্ষক-শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এরপরও কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের এইচ এম সাঁচি উচ্চবিদ্যালয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে ১ হাজার ১০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান।
বিদ্যালয়ের দ্বিতল একাডেমিক ভবনটি ১৯৬৭ সালে নির্মাণ করা হয়। তারপর এই ভবনের আর কোনো সংস্কার হয়নি। জরাজীর্ণ এই ভবনের দক্ষিণ পাশের আছে আরেকটি দোতলা ভবন। সেখানে চলে ষষ্ট ও অষ্টম শ্রেণির পাঠদান। এই ভবনটি ঝুঁকিমুক্ত।
জরাজীর্ণ দোতলা ভবনের নিচতলায় প্রধান শিক্ষকের কক্ষ। এর পাশে শিক্ষকদের বসার আরেকটি কক্ষ। নিচতলায় নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলে। দুটি কক্ষের পিলার ও ছাদের আস্তর খসে পড়ছে। ভবনের দ্বিতীয় তলায় চারটি কক্ষের একটিতে পাঠাগার। অন্য কক্ষগুলোতে সপ্তম, অষ্টম শ্রেণির পাঠদান চলে। এসব কক্ষের দেয়াল, ছাদ, পিলার ও বিমে ফাটল ধরেছে। দোতলায় ওঠার সিঁড়ি ও বারান্দায় রয়েছে একাধিক ফাটল।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইসমত জাহান বলেন, কয়েক দিন আগে ভবনের ছাদের পলেস্তারা ধসে পড়ে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী আহত হয়। তিন মাস আগে পাঠদানের সময় ছাদের ফ্যানসহ পলেস্তারা সহকারী শিক্ষক রাজিব পালের মাথায় পড়ে। তিনি মাথা ও চোখে আঘাত পান।
প্রাণের মায়া ত্যাগ করে শিক্ষার্থীরা এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠ নিচ্ছে বলে জানায় দশম শ্রেণির (বিজ্ঞান) ছাত্রী তাসমিয়া ফাতেমা। সে বলে, এখানে লেখাপড়া ভালো। আধুনিক বিজ্ঞানাগার, ডিজিটাল ক্লাস, কম্পিউটার ল্যাব সবই আছে। কিন্তু ভবনের দুরবস্থার কারণে ‘আতঙ্ক’ পিছু ছাড়ে না।
দশম শ্রেণির (ব্যবসা শিক্ষা) আরেক ছাত্রী তসলিমা আক্তার বলে, ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনে দুর্গম এলাকার হাজারো শিক্ষার্থী পাঠ নিচ্ছে। এটি ছাড়া এলাকায় অন্য কোনো উচ্চবিদ্যালয় নেই।
নবম শ্রেণির ছাত্র মামুনুর রশিদ বলে, ঝুঁকি নিয়েই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ঢুকতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুল হক সিকদার বলেন, বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই বলে বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীদের পড়াতে হচ্ছে। বর্তমানে দ্বিতল ভবনের আটটি কক্ষই ব্যবহারের অনুপযোগী। ভবনটি ভেঙে আরেকটি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য গত ২১ মার্চ কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বরাবর আবেদনপত্র পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, গত ৯ মার্চ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. রুহুল আমিন বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বিকল্প একটি ঘর তৈরি করে সেখানে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে লেখাপড়ার সুযোগ সৃষ্টির আশ্বাস দেন। কিন্তু এখনো তা হয়নি। কক্সবাজার গণপূর্ত বিভাগ ২০১৪ সালের ১২ নভেম্বর বিদ্যালয় ভবনকে ব্যবহারের অনুপযোগী হিসেবে ঘোষণা করে।
বিদ্যালয়ের সংস্কারের বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রেখে আরেকটি বহুতল ভবন খুবই জরুরি। এ ব্যাপারে চেষ্টা চলছে।

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী