সংবাদ শিরোনাম

কক্সবাজারে লবণ আমদানিতে হতাশ চাষি

কক্সবাজার ডেস্ক :

লবণ আমদানির খবরে কক্সবাজারের লবণচাষিরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। এভাবে লবণ আমদানি করলে দেশি লবণশিল্প ধ্বংসের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। তাই আমদানি বন্ধ করতে কক্সবাজারের একটি প্রতিনিধি দল শিল্পমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে লিখিত আবেদন করেছেন। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন বিসিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের বাঁশখালীসহ কক্সবাজার জেলার ৬৪ হাজার ১৪৭ একর জমিতে প্রাকৃতিকভাবে লবণ চাষ হয়। মূলত ১৫ নভেম্বর থেকে ১৫ মে পর্যন্ত এসব জমিতে লবণ উৎপাদন হয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উপকূলের ৪৩ হাজার ১০২ চাষি। লবণ আমদানির এ সিদ্ধান্তে চাষিরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

কক্সবাজারের মহেশখালীর কালারমার ছড়ার লবণচাষি নুরুল ইসলাম বলেন, এ সরকার আমাদের লবণের দাম অনেক বাড়িয়েছে। কিন্তু বিদেশ থেকে লবণ এলে আমরা সে মূল্য পাব না। কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরং এলাকার লবণচাষি নয়ন মিয়া বলেন, এখনো আমার কাছে অনেক লবণ আছে। বিদেশ থেকে কেন লবণ আনা হচ্ছে। কক্সবাজারের লবণচাষি নজরুল ইসলাম বলেন, দেশে লবণের কোনো ঘাটতি নেই, কিন্তু কিছু অসাধু মিল মালিক বিসিককে টাকা দিয়ে ঘাটতি দেখিয়ে আমদানি করাচ্ছে। চকরিয়ার লবণ মিল মালিক ফখরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, নারায়ণগঞ্জকেন্দ্রিক একটি সিন্ডিকেট রয়েছে, যারা প্রতিবছর এ রকম ষড়যন্ত্র করে লবণ আমদানি করার পাঁয়তারা করে। ওই সিন্ডিকেট আবার সব পারমিট ভাগিয়ে নিতে অপতৎপরতা শুরু করেছে। কক্সবাজারের লবণ মিল মালিক মো. কামাল বলেন, আমরা কক্সবাজারের মিলমালিকরা খুবই ক্ষতিগ্রস্ত। ঘূর্ণিঝড় ছাড়াও কয়েকটি বন্যা ও দুর্যোগের কারণে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তাই আমদানি থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন আমদানির পারমিট কক্সবাজারের মিল মালিকদের দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। লবণ মিল মালিক জিল্লুল কাদের বলেন, একেবারে ৫ লাখ টন না এনে দুদফায় আনার দাবি করছি। প্রথমে ৩ লাখ আনুক। এর পর সংকট থাকলে পরে ২ লাখ টন আনা হোক। বিসিক কক্সবাজারের লবণশিল্প উন্নয়ন প্রকল্প কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক দিলদার আহমদ চৌধুরী জানান, চলতি বছরে দেশে লবণের চাহিদা ১৫ দশমিক ৭৬ লাখ টন। এর বিপরীতে জুন মাসে শেষ হওয়া লবণ মৌসুমে উৎপাদন হয়েছে ১৩ দশমিক ৬৪ লাখ টন। এই হিসাবে চাহিদার তুলনায় ঘাটতি থাকছে ২ লাখ ১২ হাজার টন। এখন মাঠে মজুদ রয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার মেট্রিক টন লবণ। কিন্তু এ ঘাটতির সুযোগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পাঁচ লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি রইছ উদ্দিন জানান, গত ১৫ জুন শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক সভায় সরকারি প্রতিষ্ঠান বিসিক জানায়, এবার ঘূর্ণিঝড় মোরা ও আগাম বৃষ্টি-জলোচ্ছ্বাসের কারণে লবণের উৎপাদন কিছুটা কম হয়েছে। বাংলাদেশ লবণচাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোস্তাফা কামাল চৌধুরী বলেন, ‘কোরবানির ঈদের সময় কিছুটা সংকট দেখা দিতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ে তিন লাখ টন লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এখন তা কেন পাঁচ লাখ টন হয়ে গেল, বুঝতে পারছি না।’ তিনি বলেন, ‘এমন বিপুল পরিমাণ লবণ আমদানি হলে আর মাত্র তিন মাস পরই দেশে যে লবণ উৎপাদন হবে তা কেউ কিনবে না। তাতে লক্ষাধিক প্রান্তিক লবণচাষি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। লবণ আমদানি হোক, কিন্তু তাতে চাষিরা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে নজর দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।’ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে লবণের সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক রাখতে সরকার পাঁচ লাখ টন লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করার জন্য সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

Editor- Sayed Mohammad SHAKIL.
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী
error: Content is protected !!