সংবাদ শিরোনাম

উন্নয়নের স্বপ্ন দুয়ারে চট্টগ্রাম *তিন বছরের মধ্যে শেষ হবে ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ *জলাবদ্ধতা নিরসনে ছয় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প *কর্ণফুলী টানেলের কাজ শুরু

চট্টগ্রামের ওয়াসা মোড় থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (ফ্লাইওভার) এখন আর স্বপ্ন নয়। তিন বছরের মধ্যে এই ফ্লাইওভার দিয়ে গাড়ি চলাচল করবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। দক্ষিণ চট্টগ্রামকে নগরীর সঙ্গে আরো সহজভাবে যুক্ত করবে এ ফ্লাইওভার। নগরীকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করার জন্য নেওয়া হচ্ছে ছয় হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প। কর্ণফুলী টানেলের কাজও শুরু হচ্ছে। সব মিলিয়ে উন্নয়নের স্বপ্ন দুয়ারে দাঁড়িয়ে চট্টগ্রাম।

হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন করলেও জলাবদ্ধতা চট্টগ্রামের সব অর্জন নষ্ট করে দিচ্ছে। চট্টগ্রামের উন্নয়নে একাধিক বড় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। অনেকগুলোর কাজ শেষ হওয়ার পথে। দৃশ্যমান উন্নয়ন লক্ষ করা যাচ্ছে ফ্লাইওভার ও ওভারপাস নির্মাণের পর। সিডিএর (চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) হাতে অনেকগুলো প্রকল্প। পরিকল্পিতভাবে এসব উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন উন্নয়নের ছোঁয়াবঞ্চিত চট্টগ্রামে এরইমধ্যে বড় একটি ফ্লাইওভারসহ বেশ কিছু উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ার পথে। এসব উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। তবে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা ও জোয়ারের পানি নতুন করে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এবারের বর্ষায় তা অস্বাভাবিক মাত্রায় রূপ নিয়েছে। কিভাবে এ সমস্যার সমাধান করা যায় তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু পরিকল্পনা সরকারের কাছে পেশ করেছেন।

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রীমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ছয় হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই এটি একনেকের বৈঠকে উঠবে। প্রধানমন্ত্রী এ মেগা প্রকল্পের ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। মন্ত্রী আরো বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় সাগর-নদীবেষ্টিত চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষার জন্য সøুইস গেট নির্মাণ, খাল খনন ও পাম্প মেশিন দিয়ে পানি ফেলে দেওয়াসহ বিশাল কর্মযজ্ঞ রয়েছে। কর্নফুলীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণের কাজও শুরু হওয়ার পথে। এ টানেল হলে চট্টগ্রামের সঙ্গে কক্সবাজারের যোগাযোগ সহজ হয়ে যাবে।

এদিকে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণপাড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত দক্ষিণ চট্টগ্রামে আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ কোটি ডলার বিনিয়োগ হওয়ার আশা করছে সরকার। এই বিশাল বিনিয়োগের মহাযজ্ঞ সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে ওয়াসা-বিমানবন্দর ফ্লাইওভার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের পণ্যসামগ্রী শাহ আমানত সেতু থেকে শুরু করে মুরাদপুর ফ্লাইওভার হয়ে বন্দরে পৌঁছতে পারবে। ইপিজেড এবং কেইপিজেডের যানজট নিরসন করে নগরীর যান চলাচলের ক্ষেত্রেও ফ্লাইওভারটি ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

সিডিএ সূত্রে জানা গেছে, ১৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং নয়টি পয়েন্টে ১২ কিলোমিটারসহ মোট ২৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। চার লেনের এই প্রকল্পের প্রস্থ ৬০ ফুট। ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে তিন হাজার ২৫০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে জুলাই ২০১৭ থেকে জুন ২০২০ পর্যন্ত। কয়েক দিনের মধ্যে প্রকল্পের কনসালট্যান্ট নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হবে। আগামী সেপ্টেম্বরে প্রকল্পটির কাজ শুরু হবে।

লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারের নয়টি জংশনে (স্টেশন) ২৪টি র‌্যাম্প নামবে। টাইগারপাস মোড় থেকে নিউমার্কেটের দিকে ওঠা-নামার সুযোগসহ র‌্যাম্প, আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড়ে ওঠা-নামা, বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে স্ট্র্যান্ড রোডে যাওয়া-আসা, নিমতল বিশ্বরোড মোড় থেকে পোর্ট কানেকটিং রোডে ওঠা-নামা, কাস্টমস মোড়ে ওঠা-নামা, সিইপিজেড মোড়ে ওঠা-নামা, কর্ণফুলী ইপিজেড মোড়ে ওঠা-নামা, কাঠগড় মোড়ে ওঠা-নামা, সি-বিচ মোড়ে ওঠা-নামা এবং সর্বশেষ বিমানবন্দরে ওঠা নামার সুযোগ থাকছে এই ফ্লাইওভারে। জংশনগুলোর কোনোটিতে দুটি এবং কোনোটিতে চারটি র‌্যাম্প থাকবে। প্রতিটি ৫০০ মিটার করে ২৪টি র‌্যাম্পে ১২ কিলোমিটার র‌্যাম্প নির্মিত হবে।

এদিকে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়বে সিডিএ। আগ্রাবাদ শেখ মুজিব রোডে রাস্তার নিচে ১২ ফুট প্রস্থ আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেন এবং এর পাশেই রয়েছে ওয়াসার প্রধান সরবরাহ লাইন। এ ছাড়া সল্টগোলা এবং দেওয়ানহাট রয়েছে ওভারপাস। ফ্লাইওভার নির্মাণের ক্ষেত্রে এসব বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দাঁড়ালেও প্রকৌশলবিদ্যার সর্বাধুনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ওয়াসা থেকে যাওয়া ফ্লাইওভারটি গেলে টাইগারপাসের পাহাড় কাটতে হবে এমন একটা আশঙ্কা আগে ছিল। তবে পাহাড় না কেটে বর্তমান রোড ডিভাইডারের ওপর দিয়ে যাতে ফ্লাইওভারটি যেতে পারে-এমন করেই ডিজাইন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুর রহমান বলেন, প্রকল্পটির কাজ শিগগিরই শুরু হচ্ছে। তিন বছরের মধ্যে এই ফ্লাইওভারের কাজ শেষ করা যাবে বলে আশা করছি।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশাল বাজেটের ওয়াসা মোড় থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ফ্লাইওভার প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন। এটি বাস্তবায়িত হওয়ার পর বহদ্দারহাট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ফ্লাইওভারের আওতায় চলে আসবে। এতে পুরো নগরীর যাতায়াত ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। আবদুচ ছালাম বলেন, মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মিত হয়ে গেছে। এখন ওয়াসা মোড়ের ফ্লাইওভারের দুপাশ থেকে দুটি উইং চলে যাবে লালখান বাজারের দিকে। আর মাঝখানে থাকবে ফ্লাইওভারের নেমে যাওয়া অংশ। দুই উইং লালখান বাজার মোড় পার হয়ে একসঙ্গে মিলিত হবে। নির্মাণের পর ফ্লাইওভারের ইলেকট্র্রনিক টোল থাকবে। তবে কোথায়-কিভাবে টোল নির্ধারণ করা হবে, তা পরবর্তীতে চূড়ান্ত করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩১ জানুয়ারি এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সময় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অর্থায়নে ফ্লাইওভারটিকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সম্প্রসারণের নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তীতে বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে ফ্লাইওভারের জন্য দেওয়ার মতো অর্থ নেই বলে জানানো হয়। এতে প্রকল্পটি অনিশ্চয়তায় পড়ে। এরপর সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম প্রকল্পটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে যোগাযোগ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত দেন সরকারি তহবিল থেকেই প্রকল্পটির জন্য অর্থায়ন করা হবে।

Editor- Sayed Mohammad SHAKIL.
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী