সংবাদ শিরোনাম

চট্টগ্রামে বিদেশি শিক্ষার্থীদের বেপরোয়া জীবন

চট্টগ্রামের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা নিচ্ছেন এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা দুই হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চিটাগাংয়ে (ইউএসটিসি) ভর্তি আছেন ৭৭৬ জন। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশ থেকে পড়তে আসা এসব শিক্ষার্থীর অনেকেই বেপরোয়া জীবনযাপনে অভ্যস্ত। এসব শিক্ষার্থী বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। দীর্ঘদিন ধরে পরিবার থেকে দূরে থাকা শিক্ষার্থীরা গভীর রাত পর্যন্ত নগরীতে ঘোরাফেরা ও ফ্ল্যাটে ছেলেমেয়ে মিলে আসর বসান। গত শুক্রবার রাতে এমন এক আসর শেষে আসিফ শেখ (২৬) নামের ভারতীয় এক ছাত্র খুন হন। উইনসন সিং (২৫) নামের অন্য ছাত্রকেও মুমূর্ষু অবস্থায় একই কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।

জানা যায়, তুলনামূলক কম টিউশন ফি দিয়ে উন্নত শিক্ষা পাওয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ভর্তির পর নিজেদের মতো স্বাধীন জীবনযাপন শুরু করেন। এর আগে বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে নগরীতে বিভিন্ন সময় স্থানীয়দের সঙ্গে অপ্রীতিকর কয়েকটি ঘটনা ঘটে। ১৮ জুন বিশ্ববিদ্যালয়টির শ্রীলংকান এক শিক্ষার্থী খুলশী মার্টের এক কর্মচারী দ্বারা ধর্ষণের শিকার হন। পরে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে। একই মাসে শেষ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অধ্যয়নরত আনিস শেখ নামে ভারতীয় এক শিক্ষার্থী স্থানীয় কয়েক শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এ ঘটনায় তিনি খুলশী থানায় একটি অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের কারো কারো আচরণ নিয়ে স্থানীয়দের নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। ভারতীয় শিক্ষার্থীর খুনের ঘটনায় গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়টির বাইরে চা-দোকানের আড্ডায় স্থানীয় তিন যুবক বিদেশি শিক্ষার্থীদের মদপানসহ বিভিন্ন বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেন। ইউএসটিসির শেষ বর্ষের ছাত্র আল মামুন রিজভী বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি গ্রুপ আছে। তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে থাকেন। রাস্তাঘাটে খোলামেলা চলাফেরা ও মাদক সেবন করে থাকেন। ভারতীয় যে দুই শিক্ষার্থী হতাহত হয়েছেন, এরা সে গ্রুপের সদস্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতীয় এক শিক্ষার্থী জানান, মাঝে মাঝে স্থানীয়দের সঙ্গে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকে। পরে সমাধান হয়ে যায়। কিছুদিন আগে একটা ঝামেলা হয়েছিল। এটা নিয়ে এখন আতঙ্কে আছি। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকার অভিযোগও করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দোকানদার শহিদুল ইসলাম জানান, বিদেশি শিক্ষার্থীদের কারো কারো আচার-আচরণ, চলাফেরার কারণেই স্থানীয়দের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ হয়। কেউ কেউ প্রকাশ্যে মাদক নেয়, মদপান করে। বিদেশি বলে তাদের এড়িয়ে যায়। পোর্ট সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী নেওয়াজ শরীফ আমাদের সময়কে বলেন, কিছু দিন আগে জিইসি মোড়ে বিদেশি কয়েক শিক্ষার্থী এমনভাবে চলাফেরা করছিল, পোশাকের কোনো ঠিক ছিল না। তখন পথচারীরা খুব বাজে কমেন্ট করে। ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মুহাম্মদ সিকান্দার খান আমাদের সময়কে বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থীরা বেপরোয়া জীবনযাপন করছে, তা ঢালাওভাবে বলা ঠিক হবে না। একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদেশি শিক্ষার্থীদের দোষ চাপানো ঠিক হবে না। আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরাও তো প্রতিনিয়ত মাদক থেকে শুরু করে উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করেন। তা হলে সে ক্ষেত্রে কি মূল্যবোধের অবক্ষয় হচ্ছে না? খুলশী থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) রশুপক কান্তি চৌধুরী বলেন, কোনো কোনো সময় কিছু বিদেশি শিক্ষার্থী বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। বিদেশি হওয়ায় তাদের কিছু বলাও যায় না বিভিন্ন ঝামেলার কারণে। এ সুযোগে তারা যেমন পারছে চলছেন। এদিকে নগরীর বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন উইলসন সিংয়ের অবস্থা এখনো অপরিবর্তিত। গত শুক্রবার রাতে সিলিং ফ্যানে ঝুলে ফাঁসির চেষ্টারত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, উইলসন সুস্থ হলেই ঘটনার প্রকৃত রহস্য জানা যাবে।

Editor- Sayed Mohammad SHAKIL.
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী
error: Content is protected !!