সংবাদ শিরোনাম

বদলে যাচ্ছে বাজেট কাঠামো

প্রতি অর্থবছরেই বাজেট সংশোধন করা হয়। সেটি হয় অর্থবছরের শেষে। কিন্তু চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের শুরুতেই বাজেট সংশোধনের কথা জানিয়েছেন খোদ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এবার আমি সংশোধিত বাজেট আগেই দেব, দিতে হবে। কেননা নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন দুই বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সে কারণে বাজেটের অনেক ফিগার চেঞ্জ (পরিবর্তন) করতে হবে। ফলে বাজেটের মৌলিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন করা হবে। এতে আকার বদলাবে। সমন্বয় করা হবে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাও। চলতি অর্থবছরে নতুন ভ্যাট আইন ঘিরে বিশাল অঙ্কের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বাজেট তৈরি করা হয়। কিন্তু শেষ সময়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ভ্যাট আইন থেকে সরে আসায় বাজেটের হিসাব-নিকাশ এলোমেলো হয়ে গেছে। এখন নতুন করে হিসাব করতে হচ্ছে। পাস হওয়া বাজেটে নতুন ভ্যাট আইনের আওতায় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৯১ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের এ খাতে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৮ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে ২২ হাজার ৫৭৯ কেটি টাকার বেশি ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। কিন্তু নতুন আইন বাস্তবায়ন না করায় এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে না। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন ভ্যাট আইন থেকে সরে আসায় ২০ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি থাকতে পারে। এ টাকা অন্য খাত থেকে সমন্বয় করতে গিয়ে এনবিআর হিমশিম খাচ্ছে। এ জন্য এবারের বাজেটের ওপর শুরুতেই লক্ষ্যমাত্রায় ছুরি চালানো হবে। তবে অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে ঝুঁকি নিতে চান না। তিনি জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রথা অনুযায়ী, জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে নতুন বাজেট পেশের সময় বিদায়ী বাজেটের সংশোধন উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু এবার তাতে ব্যতিক্রম ঘটছে।

নতুন ভ্যাট আইন থেকে সরে আসায় বাজেটে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে। অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে বলেন, ২০১৬ সালে ভ্যাট বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলাম; পারিনি। ২০১৭ সালেও পারলাম না। ফলে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রায় পরিবর্তন আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে রাজস্ব আদায়ের খাতেও পরিবর্তন আনা হবে। প্রতিবছর যে বাজেট দিই, তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয় না; পরিবর্তন করতে হয়। এবার যেটা বড় মনে হচ্ছে তা হলো ভ্যাট। মুহিত আরও বলেন, আমি খুশি। করপোরেট কর ও আয়কর আদায় বেড়েছে। আয়কর ও মুনাফার ওপর কর থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয় ৮৫ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা। এখন রাজস্ব আদায়ের প্রধান উৎস হবে এই আয়কর ও করপোরেট কর। এ সময় তিনি আরও বলেন, আমাদের টিআইএনধারীর সংখ্যা বাড়লেও অনেকেই (জিরো) করের বাইরে রয়েছেন। এদের সংখ্যা কত তা বের করতে হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাজেটের ঘাটতি মেটাতে সরকার বেশি নজর দিয়েছে বৈদেশিক অর্থ সহায়তায়। পাইপলাইনে ব্যাপক বৈদেশিক সহায়তার প্রস্তাব রয়েছে। এটি ব্যবহার করতে চায় সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় মনে করে, এটি ব্যবহার করা মোটেও কঠিন নয়। অন্যদিকে কাটছাঁট করা হলেও বাজেট বাস্তবায়নেও আশাবাদী সরকার। অর্থ সচিব হেদায়েতুল্লা আল মামুন জানান, ১০ মেগা প্রকল্পেই ৪১ শতাংশ বরাদ্দ রয়েছে। ফলে উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নে আশাবাদী সরকার। সঞ্চয়পত্রে সুদের হার সমন্বয় করা হবে : সুদের হারের সঙ্গে সমন্বয় করে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার নির্ধারণ করা হবে। সাধারণত সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ব্যাংকের সুদের হারের চেয়ে একটু বেশি রাখা হয়। তবে খুব বেশি রাখা উচিত নয়। আমাদের সামগ্রিক একটি হিসাব হলো মার্কেট ইন্টারেস্ট রেটের চেয়ে কমপক্ষে ২ শতাংশ বা তার বেশি রাখা। সে অনুযায়ী, এই রেট নির্ধারণ করবে সরকার। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার মার্কেট সুদহারের চেয়ে অনেক বেশি। এই ব্যবধান সামগ্রিক ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সঞ্চয়পত্রের সুদহার ১১ শতাংশ থাকবে আর মার্কেটে বা ব্যাংকে থাকবে সাত শতাংশÑ এটা ঠিক নয়। এতে বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়ে। সঞ্চয়পত্রের সুদহার বাজারের সুদহারের চেয়ে একটু বেশি হবে, তবে তা খুব সামান্য। সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমানোর বিরোধিতা করে আসছেন খোদ সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা। এ নিয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ক কমিটির বৈঠক হবে। সবকিছু বিবেচনা করে নেওয়া হবে সিদ্ধান্ত। তবে এ ক্ষেত্রে পেনশনভোগী এবং মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্তরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়টি আমলে নেওয়া হবে। সঞ্চয়পত্রের সুবিধা যাদের পাওয়ার কথা তারা যেন সেটি পায়, নিশ্চিতে নেওয়া হবে উদ্যোগ। সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ : সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি অন্য সব চাকরিজীবীর জন্য পেনশন চালুর কাজ চলছে। ইতোমধ্যে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত ‘সর্বজনীন পেনশন পদ্ধতি’র খসড়া কাঠামো চূড়ান্ত হয়েছে। ২০১৮ সালের দিকে এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতে পারে। অংশীদারিমূলক এ ব্যবস্থায় চাকুরে এবং নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ উভয়েরই অবদান থাকবে। অনেক বড় বড় গ্রুপ রয়েছে, তারা এটি চালু করতে পারে। সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে এটি কার্যকর উদ্যোগ বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। বাজেটের মৌলিক পরবির্তনের মধ্যে আরও রয়েছে তৈরি পোশাক খাতে উৎসে কর কমানো। ১ শতাংশ হারে উৎসে কর রয়েছে। সেটা কমিয়ে বিদায়ী অর্থবছরের মতোই শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ হারই বহাল থাকছে। এ ছাড়া সিগারেটের ওপর আরোপিত শুল্কে পরিবর্তন আনা হবে। দেশে বর্তমানে স্বর্ণ আমদানির নীতিমালা নেই। শিগগির এটি করা হচ্ছে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে। বন্ড মার্কেটে সহায়তা দেওয়া হবে : সরকারি বন্ড রয়েছে বাজারে। কিন্তু সেটি সচল নয়। বন্ড মার্কেট সচল করতে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দেওয়া হবে। কোনো কোম্পানি যদি বন্ড ইস্যু করে তাদের সহায়তা করা হবে। এক প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, পার্টির প্রয়োজনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন। এ বিষয়ে গত শনিবার সংবাদ মাধ্যমকে মুহিত বলেন, যদি আমার পার্টি প্রয়োজন মনে করে, তা হলে বিবেচনা করব। তখন নির্বাচন করতে পারি।

Editor- Sayed Mohammad SHAKIL.
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী