সংবাদ শিরোনাম

শহরের প্রধান সড়ক ক্ষত-বিক্ষত

প্রতি বছর মেরামত করা হয় কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়ক ও উপসড়ক। কিন্তু বছর না পেরুতেই ক্ষত চিহ্ন ভেসে ওঠে সড়কগুলোর। এ যেন হয়ে ওঠে শহরবাসি ও পথচারীদের ক্ষত চিহ্ন। সড়ক উপসড়কগুলো দিয়ে চলাচলে উষ্ঠাগত হয় পথচারীদের প্রান। এ সড়কগুলো দিয়ে অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিতে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সাধারন মানুষ। স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ ও সাধারণ পথচারীদেরও চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
আলীর জাহালের এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ি শামসুদ্দিন আলম বলেন “স্ত্রীর প্রসব বেদনা উঠলে হাসপাতালে নেবার পথে রাস্তা ভাঙ্গা থাকার কারনে ঝাঁকুনিতে অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যায়। হাসপাতালে নিতে নিতে তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হয়ে যায়।”
বাংলাবাজারের বাসিন্দা স্কুল শিক্ষিকা সালেহা আক্তার বলেন “ কিছুদিন আগে আমার বোন সন্তান সম্ভাব্য হলে তাকে ডাক্তার দেখাতে শহরে নিয়ে যাওয়ার পথেই ভাঙ্গা সড়কের ঝাঁকুনিতে তার গর্ভপাত ঘটে। ডাক্তার জানায়, অতিরিক্ত ঝাঁকুনির কারনে এমনটা হয়েছে। ”
গতকাল সরেজমিনে পরিদর্শনকালে বাজারঘাটার ক্ষত সড়কে টমটম উল্টে স্কুল শির্ক্ষাথীসহ মা ও শিশুপুত্র আহত হয়। এসময় পথচারী ও টমটম চালকরা জানায়, এধরনের দূর্ঘটনা এ সড়কের নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টমটম চালক মোঃ হাসান বলেন “সেদিন এক ব্যবসায়ির কয়েক’শ ডিম নিয়ে কলাতলী থেকে বড় বাজারে আসছিলাম আইবিপি মাঠ পার হয়ে বাজারঘাটার রাস্তা পার হতেই ভাঙ্গার কারনে টমটম উল্টে সব ডিম ভেঙ্গে যায়। আমিও আঘাত প্রাপ্ত হই। এ ভাঙ্গা সড়কের কারনে ট্রাফিক জ্যাম তো লেগেই থাকে।”
কক্সবাজার সরকারি কলেজের ছাত্রী তারিন তাবাচ্ছুম ও আরিফা জান্নাত জানান “রিক্সা করে আলির জাহাল হয়ে বিডিআর ক্যাম্প যাচ্ছিলাম। হঠাৎ রিক্সা উল্টে কাঁদা পানিতে আমরা আঘাত পাই। সে জায়গায় যে রাস্তা ভাঙ্গা তা রিক্সাচালক ও বুঝতে পারেনি।”
সরেজমিনে পরির্দশন করে দেখা যায় শহরের লালদিঘীর পাড়, বাজারঘাটা, গোলদিঘীর পাড়, বাহার ছড়া, খুরুশকুল রাস্তারমাথা, রুমালিয়ার ছড়া, টেকপাড়া, আইবিপি সড়ক, হাসপাতাল সড়ক, স্টেডিয়াম পাড়া, মোহাজের পাড়া, গোদার পাড়া, আলির জাহাল, সিটি কলেজ গেইট, সরকারি কলেজ গেইট, বাহাড়ছড়া, সার্কিট হাউস সহ বিভিন্ন সড়ক উপ সড়ক খানা খন্দকে ভরে গেছে।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের র্নিবাহী পরিচালক রানা প্রিয় বড়–য়া বলেন “ অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ড্রেন বন্ধ হয়ে যায়। এতে ড্রেনের পানি সড়কে চলে আসায় সড়কে ক্ষতের সৃষ্টি হয়।” তিনি জানান, বর্তমানে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক মেরামত কাজ চলছে। কাজ শেষ হলেই কক্সবাজারের প্রধান সড়কের মেরামত কাজ ২-৩ দিনের মধ্যেই শুরু করা হবে।”
এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্ষার আগে থেকেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঠিক করার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। তবে পাহাড় কাটা বন্ধ করা না যাওয়ার কারনে বৃষ্টির সময় পাহাড়ের পানি ড্রেন ভরে যায়। আর পানি চলে আসে সড়কে। পাহাড়কাটা বন্ধ করা না গেলে এ সমস্যা পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়।
পৌরসভার র্নিবাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন “ অনেক উপসড়কেরই কার্পেটিং উঠে গেছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় তহবিলের কারণে আপাতত আমরা কাজ করতে পারছিনা। প্রকল্প পেলেই আমরা কাজ শুরু করব।”

Editor- Sayed Mohammad SHAKIL.
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী