সংবাদ শিরোনাম

সাগর তীরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে কাটছে সময়

ছুটি শেষ হলেও এখনো শেষ হয়নি ঈদের আমেজ। আনন্দ আর হৈ-হুল্লোড়ে মুখরিত বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।

লাখো দর্শনার্থীর উচ্ছ্বাসে সৈকত নগরী কক্সবাজার এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। ভোর থেকে পর্যটকরা ভিড় করছেন দীর্ঘ সৈকতের আটটি পয়েন্টে। দেশের দূর-দূরান্ত থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা সবাই মেতেছে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে। হোটেল-মোটেলে শতভাগ অগ্রিম বুকিং রয়েছে।

কক্সবাজারের সব রাস্তা যেন এখন সৈকতে গিয়ে মিশেছে। গাড়ি থেকে নেমে পর্যটকরা ছুটছেন সৈকতের দিকে। দ্বিগুণ উৎসাহে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন সাগরের বিশাল জলরাশিতে। কেউবা ওয়াটার বাইক নিয়ে সাগরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আবার কেউ রাবারের টিউবে চড়ে সাগরে দোল খাচ্ছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, সমুদ্র সৈকতের সি-ইন পয়েন্টে পর্যটকদের পদচারণা বেশি। শুধু সি-ইন পয়েন্টেই নয়, সমুদ্র সৈকতের লাবণী, কলাতলী, শৈবাল, সি-গাল, ডায়াবেটিক, মাদ্রাসা, সি-ল্যাম্প পয়েন্টও একই অবস্থা। ঈদের সরকারি ছুটি শেষ হলেও এখনো হাজার হাজার পর্যটকের ভিড় সমুদ্র সৈকতে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা পর্যটকরা আনন্দ আর হৈ-হুল্লোড়ে মেতেছেন। শিশু থেকে বৃদ্ধ- সব বয়সের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে সাগর তীর। সমুদ্র সৈকতে স্নান, ঘুরে বেড়ানো, ছবি তোলা, বিচ বাইক ও জেড স্ক্রিতে কাটছে তাদের সময়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রহিম, আরিফ ও কামাল জানান, গাড়ি থেকে নেমেই সমুদ্র সৈকতে ছুটে এসেছেন। সমুদ্রে গোসল, দৌঁড়াদৌড়ি ও বালি নিয়ে বন্ধুরা সবাই হৈ-হুল্লোড়ে মেতে উঠেছেন। ভালো লাগছে।

কুমিল্লা থেকে আসা রিয়াদ আহমেদ বলেন, ঈদের ছুটিতে দুটি গাড়ি করে তারা ৮০ জন কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছেন। গত তিন দিন ধরে রামুর বৌদ্ধ বিহার, ইনানী সৈকত, হিমছড়ির ঝর্ণা ও পাহাড় দেখেছেন। এখন সবাই মিলে কক্সবাজার সৈকতে আনন্দ করছেন।

ইমতিয়াজ-রুহি দম্পতি বলেন, খুব বেশি উপভোগ করছেন। ছুটির সময় অনেক মানুষ থাকে কক্সবাজারে। তাই এই সময়টা এখানে ছুটে এসেছেন।

হোটেল মালিক সমিতির প্রচার সম্পাদক আবু তালেব শাহ বলেন, ঈদের ছুটিতে গত দুই দিনে কক্সবাজারে তিন লাখের অধিক পর্যটক এসেছেন। পর্যটকদের আগমন এ সপ্তাহ অব্যাহত থাকবে।

সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় লাইফগার্ডের পাশাপাশি নিয়োজিত রয়েছে টুরিস্ট পুলিশের ১২০ জন সদস্য। পর্যটকরা সমুদ্র স্নানে নেমে যেন দুর্ঘটনায় না পড়েন, সেদিকে নজর রয়েছে লাইফগার্ডের সদস্যদের।

সি-সেইভ লাইফ গার্ড সংস্থার মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, এই সময়টা সাগর উত্তাল থাকে। তাই সবকটি পয়েন্টে লাইফগার্ড কর্মীরা সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন। ঈদের ছুটিতে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের কক্সবাজারে আগমন ঘটেছে। তাদের সমুদ্র স্নানে যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, এ জন্য লাইফগার্ড কর্মীরা সজাগ রয়েছেন।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বী বলেন, পর্যটকের ঢল নেমেছে সমুদ্র সৈকতে। তাই অল্প সংখ্যক ট্যুরিস্ট পুলিশ দিয়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরও পোশাকের পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

Editor- Sayed Mohammad SHAKIL.
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী