সংবাদ শিরোনাম

কক্সবাজার পেরিয়ে চট্টগ্রামের পথে রোহিঙ্গারা

হাফেজ আহমদ, বয়স ৬৫ ছাড়িয়েছে। বাড়ি মিয়ানমারের বুচিঢংয়ের সাহারবীল এলাকায়। পরিবারের রয়েছে চার মেয়ে, তিন ছেলে ও ছেলের স্ত্রী। মিয়ানমার বাহিনীর চলমান নির্যাতনের শিকার পরিবারটির যাত্রা এখন বন্দর নগরী চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে। নিজ বসতঘর ও গৃহপালিত পশু পুড়িয়েছে মিয়ানমার সেনারা। সহায় সম্বল হারিয়ে এখন নিঃস্ব পরিবারটি বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্তের তুমব্রু পয়েন্ট দিয়ে। চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া একটি পরিবহনে পরিবর্তন ডটকমের সাথে কথা হয় হাফেজ আহমদ ও তার পরিবারের।

হাফেজ আহমদ বলেন, ‘মিয়ানমারের সেনারা জ্বালিয়ে দিয়েছে আমার বসতঘর ও গরু-ছাগল। শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে পরিবারের সদস্য নিয়ে অবস্থান নেই বাংলাদেশ সীমান্তের জিরো লাইনে। সেখান থেকে ঘুমধুমের তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের পর কক্সবাজার লিংরোড হয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম।’

হাফেজ আহমদ আরও বলেন, ‘এখানে থাকলে একটু কষ্ট হবে, আর বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হবে। তাই চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। সেখানে আরও অনেক আত্মীয়-স্বজন রয়েছে।’

হাফেজ আহমদের মতো আরেকজন নাজিব আলী, বয়স ৫০ পেরিয়েছে। মিয়ানমার বাহিনীর নির্যাতনের কারণে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছেন। এখন তার যাত্রা চট্টগ্রামের হাট হাজারীর উদ্দেশ্যে। একটু ভাল থাকার জন্যই নাকি চট্টগ্রামের পথে তারা।

নাজিব আলী বলেন, ‘যাকে পাচ্ছে তাকেই গুলি করছে মিয়ানমার সেনারা। মিনিটে মিনিটে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই ভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আসি। এখন আমরা যাচ্ছি চট্টগ্রামের হাট হাজারীতে থাকা স্বজনের কাছে।’

এদিকে প্রতিদিন নাজিব আলী ও হাফেজ আহমদের মতো অনেকে পরিবার নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন। তাদের দাবি, কক্সবাজার সীমান্তে থাকলে তাদের অনেক বাঁধার মুখে পড়তে হবে। অনেক হয়রানির কথাও জানান তারা।

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী