সংবাদ শিরোনাম

ঘুচল ৫২ বছরের অপেক্ষা লামার ছোট বমুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

বান্দরবানের লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ছোট বমুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ ঘেঁষে প্রবাহিত হচ্ছে ছোট বমু খাল। বর্ষায় খালের প্রবল স্রোতের কারণে বিদ্যালয়ে যেতে পারে না খালের উত্তর পাড়ের পাঁচটি গ্রামের শিক্ষার্থীরা। এ জন্য এলাকার বাসিন্দারা বমু খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে। অবশেষে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৫২ বছর পর খালের ওপর নির্মিত হয়েছে কাঠের সাঁকো। সাঁকো পার হয়ে এখন নির্ভয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে শিক্ষার্থীরা।

ছোট বমুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ওয়াহিদুল্লাহ ছোট বমু খালের ওপর একটি কাঠের সাঁকো তৈরির উদ্যোগ নেন। পরে এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের চাঁদার টাকায় গত ৮ আগস্ট খালের ওপর তৈরি হয় ৩৫ ফুট লম্বা সাঁকো। সাঁকো নির্মাণে ব্যয় হয় মাত্র সাড়ে ছয় হাজার টাকা। সাঁকো নির্মিত হওয়ায় ছোট বমু খালের উত্তর পাড়ে অবস্থিত বলিপাড়া, ওয়াংপাড়া, পানছড়িপাড়া, ছোট বমু মুসলিমপাড়া ও ভিলেজারপাড়ার শিক্ষার্থীরা বৃষ্টির সময়ও বিদ্যালয়ে যেতে পারছে।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শংখুইহ্লা মারমা বলে, ‘বর্ষায় আমরা বিদ্যালয়ে আসতে পারতাম না। নতুন কাঠের সাঁকো হওয়ার পর এখন বৃষ্টি হলেও বিদ্যালয়ে আসতে পারছি।’

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি উচাসিং মারমা বলেন, ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত লামার ছোট বমুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৬০ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। এর মধ্যে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীকে ছোট বমু খাল পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অবশেষে এলাকাবাসীর উদ্যোগে সাঁকো তৈরি হলো।

ছোট বমু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ওয়াহিদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা চিন্তা করে বমু খালের ওপর একটি কাঠের সাঁকো তৈরির উদ্যোগ নিই আমরা। এরপর এলাকাবাসী সাহায্যে এগিয়ে আসে। সবার সহযোগিতায় সাড়ে ছয় হাজার টাকা খরচ করে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খিন ওয়ান নু প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছোট বমু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যালয় যেতে এত কষ্ট হয় আমি আগে জানতাম না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেব।’

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী