সংবাদ শিরোনাম

ওরা চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন খুলনা অঞ্চলের ক্রিকেটাররাই বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন বেশি। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, জাতীয় দলে নিয়মিত ক্রিকেটার উঠে আসতো রাজশাহী থেকে। সময়ের সঙ্গে সেই জায়গা হারিয়েছে রাজশাহী। অলক কাপালি-তাপস বৈশ্যদের পর পিছিয়ে পড়েছে সিলেট বিভাগও। তবে সম্প্রতি জাতীয় পর্যায়ে সিলেটের বেশকিছু তরুণ ক্রিকেটার রয়েছে।

তবে এসবের মাঝে সবচেয়ে বড় আক্ষেপের নাম চট্টগ্রাম বিভাগ। মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, আকরাম খান, এনামুল হক মনিদের স্বর্ণ যুগ পেরিয়ে এসেছে চট্টগ্রাম অঞ্চল। নাফিস ইকবাল, আফতাব আহমেদদেরও জাতীয় দলে খেলার স্মৃতিতে ধুলোর আস্তরণ পড়ছে। গত এক দশক ধরে চট্টগ্রামের প্রতিনিধি হয়ে খেলছেন তামিম ইকবাল। ২০১২ সালে জাতীয় দলে সুযোগ পান কক্সবাজারের ছেলে মুমিনুল হক। চলতি বছর মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফেনীর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়েছে।

কিন্তু আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটারের অভাবটা থেকেই যাচ্ছে চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে। এই খরা কাটাতে তরুণদের পানে চেয়ে চট্টগ্রামের কোচ, কর্মকর্তারা। বর্তমানে বিসিবির বয়সভিত্তিক দল, হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলে আছেন চট্টগ্রামের কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটার। সম্ভাবনাময় এসব ক্রিকেটাররাই ভবিষ্যতে জাতীয় দলে চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন বলে আশা জাতীয় ক্রিকেট লিগে চট্টগ্রাম বিভাগীয় দলের কোচ নুরুল আবেদীন নোবেলের।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় টেস্ট চলাকালীন চট্টগ্রামের আগামীর ক্রিকেটার বিষয়ে আলাপকালে নুরুল আবেদীন নোবেল উল্লেখ করেছেন কয়েকজনের নাম। তার মতে, পেস বোলিং অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন, ব্যাটসম্যান ইয়াসির আলী রাব্বি, উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান ইরফান শুক্কুর, যুব দলের অফস্পিনার নাঈম হাসান, পেস বোলার ইয়াসিন আরাফাত মিশুরাই চট্টগ্রামের ভবিষ্যত্। জাতীয় দলে খেলার মতো প্রতিভা, সামর্থ্য এসব ক্রিকেটারের রয়েছে।

বিসিবির পাইপলাইনে থাকা চট্টগ্রামের ক্রিকেটারদের সম্পর্কে জানাতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে বর্তমানে হাই পারফরম্যান্স দলে পাঁচজন খেলোয়াড় আছে। পাঁচজনের মধ্যে তিনজন ইংল্যান্ড গেছে। দুজন স্ট্যান্ডবাই আছে। এরা হচ্ছে, ইরফান শুক্কুর, সাইফউদ্দিন, ইয়াসির আলী রাব্বি, হোসেন আলী, তাসামুল হক। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্যাম্পেও সাত জন খেলোয়াড় আছে; ইয়াসিন মিশু, নাঈম হাসান, হাসান মাহমুদ, মাহমুদুল হাসান জয়, সাখাওয়াত, হামিম পাটোওয়ারী, সায়মন।’

বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে এসব ক্রিকেটারকে দেখে আসছেন নুরুল আবেদীন নোবেল। তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে বেশিরভাগ উঠতি ক্রিকেটার। আমরা আশা করি এইচপি, অ-১৯ দলে ওরা যদি ওদের পারফরম্যান্সটা ধারাবাহিক রাখতে পারে, তাহলে জাতীয় দলেও ভবিষ্যতে ওরা পারফর্ম করতে পারবে।’

জাতীয় দলে এক সময় চট্টগ্রামের ক্রিকেটারদের জয়জয়কার ছিল। সময়ের সঙ্গে চট্টগ্রামের পিছিয়ে পড়ার কারণ সম্পর্কে অভিজ্ঞ এ কোচ বলেছেন, ‘সবাই চেষ্টা করছে। এখানে খেলোয়াড়দের নিবেদন, চেষ্টার একটা ব্যাপার আছে। কিছুদিন আগেও তো রাজশাহী থেকে প্রচুর খেলোয়াড় আসতো জাতীয় দলে। এখন দেখেন রাজশাহী থেকে এক বা দুইজন আসছে। মানে কমে আসছে। এখন খুলনা নেতৃত্ব দিচ্ছে। সময়ের সঙ্গে এটা পরিবর্তন হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো একটা খেলোয়াড়ের শৃঙ্খলা, চেষ্টা, আচরণ, পেশাদারিত্ব এসবের উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। কমিটমেন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

দেশের জন্য খেলার চিন্তা, বাসনা একজন খেলোয়াড়কে অনেক উদ্দীপ্ত করে, এগিয়ে দেয়। নুরুল আবেদীন নোবেল বলেন, ‘দেশের জন্য চিন্তা করতে হবে। দেশের জন্য আমি খেলবো, দেশের জন্য কিছু করবো এমন চিন্তা যদি থাকে তাহলেই জাতীয় দলে খেলা যায়। নিজেকে প্রস্তুত করা যায়। এটা খুব সহজ না।’

লম্বা সময় ধরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলায় কাজ করছেন নুরুল আবেদীন নোবেল। তার দৃষ্টিতে, অন্য বিভাগের মতো এখনও সব কাঠামো বিদ্যমান আছে। তারপরও খেলোয়াড়দের নিজস্ব চেষ্টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘আমরা কাজ করছি অনেক বছর ধরে। আমরা সাহায্য, সহযোগিতা সব করছি। আমি এই মাত্র বান্দরবান থেকে ফিরলাম বয়সভিত্তিক পর্যায়ের দলের কাজ করে। আমরা চেষ্টা করছি, বাকিটা হলো ব্যক্তিগতভাবে ছেলেটা বা খেলোয়াড় নিজের লক্ষ্যের প্রতি কতটা চেষ্টা করছে।’

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী