সংবাদ শিরোনাম

একজন মানবিক প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের কান্নায় কাঁদলে তিনি : কাঁদালেন সবাই-কে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট :

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে প্রাণ বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আস্থার জায়গা এখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারা মনে করেন, এই মানবিক প্রধানমন্ত্রীই পারেন তাদের ঘরে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে। যিনি আশ্রয় দিয়ে জীবন বাঁচিয়েছেন, খাবার দিয়ে ক্ষুধা নিবারণ করেছেন, সেই শেখ হাসিনার প্রতি তাদের শ্রদ্ধা আর আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেখতে গেলে তারা এভাবেই মনের কথা প্রকাশ করেন। তারা এখন এই মানবিক প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আছেন।
শরণার্থী শিবিরে শিশুদের পরম মমতায় জড়িয়ে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সময় নিয়ে মনযোগ দিয়ে তাদের কথা শোনেন। সেখানকার নারীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কান্নাজড়িত মুখ দেখার সঙ্গে সঙ্গে পা ছুঁয়ে তাকে সালাম করতে এগিয়ে যান।
কুতুপালং ক্যাম্পে পৌঁছে শেখ হাসিনা সেখানে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের নারী, পুরুষ, শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় নারী ও শিশুদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠলে চোখ ভিজে ওঠে নয়া অভিভাবক শেখ হাসিনার।
রোহিঙ্গাদের কষ্টের কথা শুনে আবেগে নারী-শিশুদের জড়িয়ে ধরেন শেখ হাসিনা। পরম মমতায় তাদের বুকে টেনে নেন। আশ্রয় নেওয়া অসহায় রোহিঙ্গা নাগরিকরা তাদের ভাষায় প্রধানমন্ত্রীকে দুঃখ-কষ্টের কথা বলেন। একজন দোভাষি পারস্পরিক কথাবার্তায় সহযোগিতা করেন। রোহিঙ্গাদের কষ্ট শুনে কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানাকেও চোখ মুছতে দেখা যায়। এসময় তার সঙ্গে ছোট বোন শেখ রেহানাও ছিলেন। মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন তারা।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানবিক দিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের আমরা আশ্রয় দিয়েছি। আন্তর্জাতিক সংস্থাদের বলবো তারা যেন রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রতি চাপ প্রয়োগ করে। আজ মঙ্গলবার কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন শেষে এক সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মানুষ, রোহিঙ্গাদের পাশে আমরা আছি। রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনসহ মানুষ হিসেবে তাদের বেঁচে থাকার অধিকার ফিরিয়ে আনতে বিশ্বের সকল মুসলিম দেশের পাশাপাশি দাতা দেশসহ, জাতিসংঘ এবং ওআইসি’র সহযোগিতা নেওয়া হবে। মিয়ানমার সরকার সম্মানজনকভাবে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে না নিলে আমরাও কঠোর হবো বলে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমার সমস্যা সৃষ্টি করেছে, সমস্যার সমাধানও তাদের করতে হবে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ না হওয়া পর্যন্ত এ দেশে মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করা হবে। তাদের নাম, ঠিকানা সংগ্রহ করা হচ্ছে। আশ্রিত সকল রোহিঙ্গাদের নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালে রোহিঙ্গারা এদেশে শরণার্থী হিসেবে অনুপ্রবেশ করেছিল। কূটনৈতিক তৎপরতায় তাদেরকে আমরা সম্মানজনক ভাবে ফেরত পাঠিয়েছিলাম। এবারও তার ব্যতয় ঘটবে না। ধারাবাহিকতায় তাদেরকে স্বদেশে ফেরত পাঠাতে বর্তমান সরকার দাতাদেশ গুলোকে সঙ্গে নিয়ে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের ধৈর্য্য ধারণের আহবান জানিয়ে বলেন, সমস্যা থাকবে, সমাধানও আছে। এদেশে রোহিঙ্গাদের প্রতি সদয় আচরণ করার জন্য সকলের প্রতি আহবানও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদেরকে এখানে আশ্রয় দিয়েছি। ১৯৭১সালে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীও আমাদের উপর এ রকম নির্যাতন করেছিল। তখন আমাদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দিয়েছিল। তখন আমরা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। রিফিউজি হয়েছিলাম আমরাও। তিনি বলেন, নির্যাতিত রোহিঙ্গারা তারা কষ্ট করে আজ আমাদের দেশে আশ্রয় নিয়েছে। এদের দুর্ভোগের সুযোগ নিয়ে কেউ যেন রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা না করে। ১৬ কোটি মানুষকে আমরা খাবার দেই। তার সঙ্গে এরকম আরও ২, ৪, ৫ লাখ লোককে খাবার দেওয়ার মত শক্তি বাংলাদেশের রয়েছে। আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করে যাব। শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমারে যেভাবে গণহত্যা চালিয়েছে তাতে আমি মর্মাহত। আমি নিজেও স্বজনহারা। স্বজনহারার বেদনা কত যে কঠিন সেটা আমি বুঝি।
সভাশেষে রোহিঙ্গা পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পর্যায়ক্রমে সবাইকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে। সমাবেশ শেষে গাড়িযোগে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে উখিয়া ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতনে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগই আহত ও ঘরহীন। আশ্রয় ও সহযোগিতা পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান রোহিঙ্গারা। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে প্রাণ বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আস্থার জায়গা এখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারা মনে করেন, এই মানবিক প্রধানমন্ত্রীই পারেন তাদের ঘরে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে। যিনি আশ্রয় দিয়ে জীবন বাঁচিয়েছেন, খাবার দিয়ে ক্ষুধা নিবারণ করেছেন, সেই শেখ হাসিনার প্রতি তাদের শ্রদ্ধা আর আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে।
তাদের কষ্ট লাঘবে সহযোগিতা এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে মিয়ানমারে ফিরে যেতে শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভূমিকা রাখবেন বলেও মনে করেন এই বিশাল রোহিঙ্গা গোষ্ঠি।


কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রধানমন্ত্রী অনুরোধ করেন, যারা আশ্রয়ের জন্য এসেছে, তাদের যেন কোনো কষ্ট না হয়।
শরণার্থীদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের নামে কেউ যেন ‘নিজের ভাগ্য গড়ার খেলা’ খেলতে না পারে- সে ব্যাপারেও সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
রোহিঙ্গারা বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আমরা জীবন বাঁচাতে পারছি। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞ’। আমরা যেন মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে অধিকার নিয়ে মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে পারি, আমাদের ওপর যেন নির্যাতন বন্ধ হয়। আমরা চাই, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই অনুরোধ ও প্রত্যাশা করেন এই নয়া অভিভাবকের প্রতি।

Editor- Sayed Mohammad SHAKIL.
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী