সংবাদ শিরোনাম

কুতুপালং ও বালুখালীতে ২০টি বুথে রোহিঙ্গা নিবন্ধনের কাজ চলছে

মিয়ানমারে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিবন্ধনের আওতায় আনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অপরাধ দমন ও ত্রাণ সহায়তা এবং মিয়ানমার প্রত্যর্পণে সুবিধার লক্ষে সকল রোহিঙ্গাকে বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে।

সোমবার সন্ধ্যায় এক রোহিঙ্গা নারীকে নিবন্ধিত করার মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। প্রত্যেক রোহিঙ্গার নাম, ঠিকানা, আঙ্গুলের ছাপ ও ছবিসহ তাদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ কাজে পাসপোর্ট অধিদফতরের একটি টেকনিক্যাল টিম সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন রোহিঙ্গা বিষয়ে খোলা কন্ট্রোলরুমের ইনচার্জ ও কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) খালেদ মাহমুদ।

সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, যেসব রোহিঙ্গা বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের আওতায় আসবে না তাদের কোনো ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে না। আর ভবিষ্যতে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যর্পণের সময় ও বাংলাদেশে অবস্থানকালীন নিরাপত্তায় বায়োমেট্রিক নিবন্ধন কাজে লাগবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার সকাল থেকে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরুর কথা ছিল। কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও দাপ্তরিক কিছু সমস্যার কারণে নির্দিষ্ট সময়ে তা আরম্ভ করা যায়নি। তাই প্রথমে মঙ্গলবার থেকে কাজ শুরুর সিদ্ধান্ত হলেও সুযোগ আসায় সোমবার সন্ধ্যায় নিবন্ধনের কাজ উদ্বোধন করা হয় বলে উল্লেখ করেন এডিএম খালেদ মাহমুদ।

তিনি বলেন, কুতুপালং ক্যাম্পে একটি বুথ চালু করে পাসপোর্ট বিভাগের কর্মকর্তা বি. জেনারেল সাইদুর রহমান ও লে. কর্নেল শফিউল আজম এ নিবন্ধনের যাত্রা শুরু করেন। প্রথম দিন ১২ জনকে নিবন্ধনের আওতায় আনা সম্ভব হয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাঈন উদ্দিন জানান, কুতুপালং ও বালুখালীতে দুটি টিমে ২০টি বুথে ছবি তোলা ও নিবন্ধনের কাজ করছে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী কুতুপালং থেকে চলে যাবার পর দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গার নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান ইউএনও।

তিনি আরও জানান, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন আসা ও পূর্বের অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিবন্ধনের আওতায় এসে সবাইকে বালুখালীতে শরণার্থী শিবির তৈরি করে সেখানে রাখা হবে। এছাড়াও ইতোপূর্বে বাংলাদেশে ঢুকে কক্সবাজারসহ অন্যান্য জেলায় ছড়িয়ে পড়াদের খুঁজে বের করে এই নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে এবং তাদেরও বালুখালী ক্যাম্পে থাকার ব্যবস্থা করা হবে।

বায়োমেট্রিক নিবন্ধন প্রক্রিয়া কীভাবে করা হচ্ছে জানতে চাইলে এডিএম খালেদ মাহমুদ বলেন, প্রত্যেক রোহিঙ্গার নাম, ঠিকানা, আঙ্গুলের ছাপ ও ছবিসহ তাদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ কাজে পাসপোর্ট অধিদফতরের একটি টেকনিক্যাল টিম সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে। নিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের পরিচয়পত্রও দেয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পূর্বে আসা নিবন্ধিত ৩২ হাজার রোহিঙ্গার জন্য উখিয়ার কুতুপালং ও টেকনাফের নয়াপাড়ায় নিবন্ধিত দুটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প রয়েছে। এর মাঝে উখিয়ার কুতুপালংয়ে শরণার্থী সংখ্যা ১৪ হাজার এবং নয়াপাড়ায় রয়েছেন ১৮ হাজার। এর বাইরে কুতুপালং ও বালুখালী এবং টেকনাফ উপজেলার লোদা, নয়াপাড়া ও শাপলাপুরে অনিবন্ধিত আরও ৫টি ক্যাম্প রয়েছে। যেখানে আনুমানিক দেড় থেকে দু’লাখ রোহিঙ্গা বাস করছেন। তবে এর বাইরে কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের তথ্য জানতে সম্প্রতি রোহিঙ্গা শুমারি করা হয়। সেই শুমারির তথ্যানুযায়ী দেশে চার লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী মিয়ানমার থেকে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে উখিয়ার ইউএনও মো. মাঈন উদ্দিন জানান, দুই হাজার একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জন্য। এ নির্ধারিত জায়গার মাঝে বালুখালী ও কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প দু’টোই পড়ে। মূলত এ দুটো ক্যাম্পের মাঝখানে যে খালি জায়গাটা আছে তাতে রয়েছে ছয়শ একর জমি। আমরা আরও এক্সটেনশন করে নতুন যারা এসেছে তাদের জায়গা দেয়ার জন্য দুই হাজার একর জায়গার প্রস্তাব করেছি। সোমবার পর্যন্ত নির্মিত দুইশ শেডে ইতোমধ্যে ১৬শ পরিবারকে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। দ্রুত কাজ এগিয়েে চলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিদ্যুৎ ও রোহিঙ্গাদের সচেতনতার উপর নির্ভর করবে কত দ্রুত বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সম্পন্ন হবে।

Editor- Sayed Mohammad SHAKIL.
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী
error: Content is protected !!