সংবাদ শিরোনাম

২৫ বছরে প্রথম সরকার প্রধানকে কাছে পেল রোহিঙ্গারা

গত ২৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মত কোনো সরকার প্রধান রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে গেছেন। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের কুতুপালং ক্যাম্প পরিদর্শন করে তাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।

গত ১৯৯২ সালে এই শরণার্থী শিবির গড়ে উঠেছিল। তখন মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা দুই লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। তাদের জন্য তখন ২০টি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল।

এরমধ্যে ২ লাখ ৩৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিলেও বাকি ৩৫ হাজার শরণার্থীকে ফেরত নেয়া বন্ধ হয়ে যায় ২০০৪ সালে। তারা রয়ে যায় উখিয়ার কুতুপালং ও টেকনাফের নয়াপাড়া ক্যাম্পে।

পরবর্তীতে এই দুটি ক্যাম্পের পাশে এসে অবস্থান নেয় বিভিন্ন সময় সীমান্ত অতিক্রম করে আসা রোহিঙ্গারা। যাদের নিয়ে গড়ে ওঠে দুটি অনিবন্ধিত শরণার্থী ক্যাম্প। গত ২৫ আগস্টের পর আসা রোহিঙ্গারাও এসব ক্যাম্পে এসে অবস্থান নিয়েছে।

সদ্য আসা রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুতুপালং আসেন। এখানে তিনি ১৫ জন রোহিঙ্গাকে ত্রাণ সামগ্রী দেন যার মধ্যে ছিল খাদ্য ও কাপড়।

রাখাইনের মংডুর বাসিন্দা পঞ্চাশোর্ধ্ব শহরমূল্লক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে ত্রাণ নিয়েছেন। এতেই মুখে দিগ্বিজয়ী হাসি তার। নিজ দেশে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে আসার দুঃখ যেন কিছুক্ষণের জন্য ভুলে গেছেন তিনি।

গত সপ্তাহে সীমান্ত অতিক্রম করে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন কুতুপালং ক্যাম্পে। প্রতিবেদকের কাছে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘পঞ্চাশ বছরের জীবনে কখনো রাজা (সরকার প্রধান) দেখিনি, এবারই দেখলাম। এর চেয়ে ভালো কিছু আর কি হতে পারে!’

কুতুপালং নিবন্ধিত শরণার্থী ক্যাম্পে বসবাসকারী মোহাম্মদ শফি বলেছেন, ‘সব সময় টেলিভিশন ও পেপার পত্রিকায় বিভিন্ন দেশের রাজা, প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী দেখি। আমাদেরতো কোন প্রধানমন্ত্রী নেই। আমরা এখন বাংলাদেশে আছি, ইনিই এখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী।’

কুতুপালং ক্যাম্পের চেয়ারম্যান আবদুর রহিম বলেন, ‘আগে মন্ত্রী ও অন্যান্য কর্মকর্তারা আসলেও এবারই প্রথম প্রধানমন্ত্রী ক্যাম্পে এসে শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন।’

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের দেখতে আসায় এটা আমাদের জাতির জন্য অনেক ভালো হয়েছে’ যোগ করেন তিনি।

গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর গণহত্যার মুখে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এদের বেশির ভাগই এখন কক্সবাজার জেলার টেকনাফ, উখিয়া এবং বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যাংছড়ি উপজেলায় অবস্থান করছে।

Editor- Sayed Mohammad SHAKIL.
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী
error: Content is protected !!