সংবাদ শিরোনাম

২৭ কোম্পানির ৬১ ওষুধ বাতিল ঘোষণা

জীবন রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ওষুধ। দেশে বছরে প্রায় ২১ হাজার ২৫৬ কোটি টাকার ওষুধ উৎপাদন করা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদনের অভিযোগ ওঠে প্রায়ই। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় তা ধরাও পড়ে। নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদনের অভিযোগে গত বছর ২৭ কোম্পানির ৬১ ধরনের ওষুধের রেজিস্ট্রেশন (নিবন্ধন) বাতিল করা হয়েছে। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এক পরিচালক আমাদের সময়কে বলেছেন, সারা দেশ থেকে উৎপাদিত ওষুধের স্যাম্পল র্যানডম সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় মানবহির্ভূত ওষুধ সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়। সাময়িকভাবে বাতিল করা ওষুধের বিষয়টি ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কমিটির (ডিসিসি) বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। ডিসিসির সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ২০১৬ সালে ডিসিসির দুটি বৈঠকের সুপারিশের ভিত্তিতে ২৭টি কোম্পানির ৬১ ধরনের ওষুধ বাতিল করা হয়েছে।

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এক পরিচালক জানান, আমাদের কর্মকর্তারা সারা দেশ থেকে উৎপাদিত ওষুধের স্যাম্পল র্যানডম সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠান। সেখানে যেসব কোম্পানির ওষুধ মানবহির্ভূত পাওয়া যায়, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ২০১৬ সালেও ডিসিসির সুপারিশ অনুযায়ী ২৭ কোম্পানির ৬১ ধরনের ওষুধ বাতিল করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের ওষুধশিল্প একটি দ্রুত বিকাশমান শিল্প খাত। দেশের ২৬৬ অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান প্রতিবছর ২০ হাজার ৪০৬ কোটি টাকার ওষুধ এবং এর কাঁচামাল তৈরি করে। এ ছাড়া দেশের ২৬৭ ইউনানী, ২০৭ আয়ুর্বেদিক, ৭৯ হোমিওপ্যাথিক ও ৩২টি হারবাল ওষুধ তৈরির প্রতিষ্ঠান বছরে ৮৫০ কোটি টাকার ওষুধ উৎপাদন করে। দেশের মানুষের চিকিৎসাকাজে ব্যবহারের জন্য প্রায় ২৭ হাজার ব্র্যান্ডের ওষুধ উৎপাদন করে দেশি কারখানাগুলো। এসব ওষুধের উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ, বাজারজাতসহ যাবতীয় বিষয় দেখভালের দায়িত্ব ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের। দেশি কারখানায় উৎপাদিত ওষুধগুলো থেকে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ঢাকার ন্যাশনাল কন্ট্রোল ল্যাবরেটরিতে ৭ হাজার ৩৩৪টি এবং চট্টগ্রামের সেন্ট্রাল ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে ১ হাজার ৫০৯টিসহ ৮ হাজার ৮৪৩টি নমুনা পরীক্ষার বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে মানবহির্ভূত ওষুধের নমুনা পাওয়া যায় ২২৩টি। এর পরই নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদনের অভিযোগে ৬১ ওষুধের নিবন্ধন সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়। পরবর্তী সময়ে পরীক্ষাগারের প্রাপ্ত রিপোর্টসহ বিস্তারিত ডিসিসির ২০১৬ সালের ২৩ জুন অনুষ্ঠিত ২৪৫তম এবং ২০১৬ সালের ১৮ অক্টোবর ২৪৬তম বৈঠকে উপস্থাপন করেন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। ডিসিসি নিম্নমানের ওষুধ হওয়ায় ২৭ কোম্পানির ৬১ ওষুধের নিবন্ধন বাতিলের সুপারিশ করে। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরে ওষুধের নিবন্ধন বাতিল করে দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের ১৮ অক্টোবর ২৪৬তম বৈঠকে বাতিল করা ওষুধগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের লিমারিল প্লাস-১ ও লিমারিল প্লাস-২ ট্যাবলেট; দ্য হোয়াইট হর্স ফার্মাসিউটিক্যালসের রোজিমিন ট্যাবলেট; অ্যারিস্টোফার্মা লিমিটেড আরমোমেট ২ ট্যাবলেট; প্যাসিফিক ফার্মাসিউটিক্যালসের রোজমেট ২ ট্যাবলেট, ডায়েটা প্লাস ২ ও ডায়েটা প্লাস ৪ ট্যাবলেট; এসিআই লিমিটেডের রোটামিন ২, রোটামিন ৪, রোটামিন ডিএস ২, রোটামিন ডিএস ৪ ট্যাবলেট, রোজলিম ১ ও রোজলিম ২ ট্যাবলেট, ডায়টেজ প্লাস ২ ও ডায়টেজ প্লাস ৪ ট্যাবলেট। এর আগে ২০১৬ সালের ২৩ জুনের ২৪৫তম বৈঠকে বাতিলকৃত ওষুধগুলোর মধ্যে রয়েছে ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস ওয়ার্কস লিমিটেডের ফ্লুক্লক্সাসিন গ্রুপের ইন্দোফ্লক্স ক্যাপসুল, অ্যামোক্সাসিলিন বিপি গ্রুপের ইন্দোমক্সিন ক্যাপসুল, ডক্সিসাইক্লিন গ্রুপের ইনডক্স ক্যাপসুল, ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম গ্রুপের ইন্দোফেনাক ১০০ এসআর ট্যাবলেট, রেনিটিডিন ইউএসপি গ্রুপের ইন্দোস্টিন আর ১৫০ ট্যাবলেটসহ কোটিমক্স ডিএস ট্যাবলেট, কোটিমক্স সাসপেনসন, মেট্রল সাসপেনসন, মেট্রল ট্যাবলেট, টেনসারিল ট্যাবলেট, ইন্দোপ্লেক্স-বি ট্যাবলেট, প্যারাসিটামল ট্যাবলেট, রিবোফ্লাভিন ট্যাবলেট। আরএন ফার্মাসিউটিক্যালসের তৈরি প্যারাসিটামল জেনিরিক গ্রুপের সিভেট-ভেট বোলাস; ফিনিক্স কেমিক্যাল ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের রেনিটিডিন ইউএসপি জেনিরিক গ্রুপের ফিনিক্স রেনিটিডিন ট্যাবলেট ও ওমিপ্রাজল গ্রুপের ফিনিক্স ওমিপ্রাজল-২০; মেডিকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের রিবোফ্লাভিন ট্যাবলেট; বিস্ট্রল ফার্মা লিমিটেডের কেটোরোলাক ট্যাবলেট এবং ওমিপ্রাজল গ্রুপের লোসেক-২০ ক্যাপসুল; ক্রিস্টাল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের রেনিটিডিন ইউএসপি গ্রুপের নিডিন ট্যাবলেট; স্ট্যান্ডার্ড ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম গ্রুপের ভোল্ট-৫০ ট্যাবলেট; গ্লোবেক্স ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের মিউকোটেক সিরাপ; স্পার্ক ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ওমিপ্রাজল গ্রুপের স্পারমি ক্যাপসুল, অ্যামোক্সাসিলিন গ্রুপের স্পারম্যাক্স-২৫০ ক্যাপসুল, প্যারাসিটামল গ্রুপের স্পারমল এক্সট্রা ট্যাবলেট, ডক্সিসাইক্লিস জেনিরিক গ্রুপের স্পারডক্স-১০০ ক্যাপসুল; প্যারাডাইস কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম গ্রুপের প্যারাফেনাক-৫০; বেলসেন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের প্যারাসিটামল গ্রুপের অর্পা ট্যাবলেট, জেনিথ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম গ্রুপের ডাইকোনিল এসআর ট্যাবলেট ও টেট্রাসাইক্লিন হাইডোক্লোরাইড গ্রুপের টাট্রাজেন ক্যাপসুল; টেকনো ড্রাগস লিমিটেডের প্যারাসিটামল গ্রুপের পাইরোভেট বোলাস; বায়োস ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের রেনিটিডিন ইউএসপি গ্রুপের স্টমাডিন ট্যাবলেট; টুডে ফার্মা লিমিটেডের আইবুপ্রোফেন গ্রুপের পেইনআউট-৪০০ ট্যাবলেট; মমতাজ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ভায়োজেন ২% লোশন; মিস্টিক ফার্মাসিউটিক্যালসের ওমিপ্রাজল গ্রুপের প্রাম-২০ ক্যাপসুল; ফার্মিক ফার্মাসিউটিক্যালসের টেট্রাসাইক্লিন হাইডোক্লোরাইড গ্রুপের টেট্রাসাইক্লিন ক্যাপসুল, মেট্রানিডাজল গ্রুপের মিকোজল-৪০০ ট্যাবলেট, সিপ্রোফ্লক্সাসিন হাইড্রোক্লোরাইড ইউএসপি গ্রুপের পিব্যাক ট্যাবলেট; ইউনিয়ন ফার্মার এডোল সাসপেনসন, স্টারস ফার্মাসিউটিক্যালসের রেনিটিডিন-১৫০ ট্যাবলেট। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালে মানহীন ওষুধ উৎপাদন করায় ১০টি কোম্পানির ১৪ ধরনের ওষুধ সাময়িকভাবে বাতিল করে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। এগুলোর মধ্যে রয়েছে টেকনো ড্রাগস লিমিটেডের মেট্রোভেট বোলাস, সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালসের এন্ট্রিন ট্যাবলেট, ফিনিক্স কেমিক্যাল ল্যাবরেটরিজ (বাংলাদেশ) লিমিটেডের প্যারাসিটামল প্লাস, মুসলিম ফার্মাসিউটিক্যালসের (ইউনানী) শরবত জিনসিন ও ট্যাবলেট হাব্বে নিশাত, জেনফার্মার (ইউনানী) লিমিটেড ক্যাপসুল ডুলোক্যাপ ও ক্যাপসুল ভিয়েক্স (জিনসেং), আইকে ফার্মাসিউটিক্যালসের (ইউনানী) শরবত ছদর (কার্ডিফেক্স) ও শরবত দীনার (লিভোমেক্স), গ্লোব ল্যাবরেটরিজের (হোমিও) জিনসিং সিরাপ, নিউ হারবাল ল্যাবরেটরিজের (ইউনানী) পদ শরবত কারমিনা, এন ইন্ট্রা ফার্মাসিউটিক্যালসের (ইউনানী) সিরাপ জিনসিন প্লাস, রেক্সটন ফার্মার (ইউনানী) ক্যাপসুল টনিরেক্স ও সফারেক্স। এক ওষুধ বিজ্ঞানী বলেছেন, ৫০০ এমজি একটি প্যারাসিটামল তৈরিতে যেসব উপাদান থাকা দরকার, তা সঠিক মাত্রায় আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে মান পরীক্ষা করতে হয়। একটি মানসম্পন্ন প্যারাসিটামলের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপাদানের মাত্রা ৪৫০ থেকে ৫০০-এর মধ্যে থাকতে হবে। এর বেশি বা কম হলে সেটি ওষুধ বলা চলে না। ওষুধের মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের। কিন্তু দেশে উৎপাদিত সব ব্র্যান্ডের ওষুধের মান পরীক্ষার সামর্থ্য ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নেই। ফলে কোম্পানি যে মানে তৈরি করছে তা-ই সেবন করতে হয় মানুষকে।

Editor- Sayed Mohammad SHAKIL.
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী