সংবাদ শিরোনাম

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠক আজ শুরু

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সংকট নিরসনে ট্রাম্পকে ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান। সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সংস্কারের ওপর এক অনুষ্ঠানে দুই নেতার সাক্ষাৎ হয়। এ সময় ট্রাম্প ও শেখ হাসিনা অনানুষ্ঠানিকভাবে বেশ কিছু সময় কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানায়, আলাপচারিতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি ট্রাম্পকে বিস্তারিত অবহিত করেন। মিয়ানমারে অমানবিক নির্যাতনের শিকার এ জাতিগোষ্ঠীর অবস্থা বাংলাদেশে এসে দেখার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টকে আমন্ত্রণ জানান তিনি।

এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশন আজ শুরু হচ্ছে। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় (নিউইয়র্ক সময় সকাল ৯টা) অধিবেশন বসবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বরাবরের মতো বাংলায় ভাষণ দেবেন ২১ সেপ্টেম্বর। এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তা পরিষদের একটি সভায়ও বক্তব্য দেবেন।

নির্ধারিত কর্মসূচি মোতাবেক, সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের সংস্কারের ওপর একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। জাতিসংঘ সদর দফতরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ বিশ্বের অন্য নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও যোগ দেন। এ সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমলাতন্ত্র ও অব্যবস্থাপনার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতিসংঘ পুরোপুরি সম্ভাবনায় পৌঁছতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, আমরা পুরো ব্যবস্থার প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিবের দেখভালের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করি। আমরা জাতিসংঘের উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা, শান্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো করার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করি।

ট্রাম্প বলেন, আমরা এমন এক জাতিসংঘ চাই, যেখানে সারা বিশ্বের মানুষের আস্থা থাকবে। আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বাদ দিয়ে ব্যবস্থাপনা হালনাগাদ করতে হবে এবং জাতিসংঘের মূল মিশনকে এগিয়ে নিতে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

উচ্চপর্যায়ের এ সভার আলোচ্য বিষয়ের শিরোনাম ছিল ‘জাতিসংঘের সংস্কার : ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন’। জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেসের এ বিশ্ব সংস্থার বৃহত্তর দক্ষতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা আনয়নে একটি ঘোষণা গ্রহণের প্রচেষ্টাকালে এ সভা অনুষ্ঠিত হল। সোমবার সকাল পর্যন্ত এ ঘোষণায় ১২৮টি দেশ স্বাক্ষর করেছে।

পরে শেখ হাসিনা ‘যৌন হয়রানি ও অপব্যবহার রোধ’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের এক সভায় যোগ দেন। আর ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টবগের সঙ্গেও তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা। এ ছাড়া স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচিও ছিল।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেয়ার পরপরই বাংলাদেশ মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন। এ ছাড়া একইদিনে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘ বৈঠকের ফাঁকে ফাঁকে বন্ধুপ্রতিম দেশ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে শেখ হাসিনার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, সন্ত্রাসবাদ নির্মূল, শান্তি ও সম্প্রীতি, তথ্যপ্রযুক্তি, বিশুদ্ধ পানীয় জল, অভিবাসন ইত্যাদি ইস্যুতেও বেশ কয়েকটি বৈঠকে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে তার।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন যুগান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে রোহিঙ্গা ইস্যু গুরুত্ব পাবে। জাতিসংঘের মূল অধিবেশনে এবং সাইডলাইন বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে জোরালো বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রয়াস এরই মধ্যে মানবিকতা ও শান্তির ক্ষেত্রে বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ১৯৪ রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতারা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন। অধিবেশন চলবে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

জাতিসংঘে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক : রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘে বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে এক বৈঠকে বসছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সম্মেলনে অংশ নেয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এতে অংশ নেবেন। সোমবার ওই বৈঠকটি হওয়ার কথা বলে জানায় নিউইয়র্ক টাইমস। রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা বন্ধে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপের অংশ হিসেবে এ বৈঠককে দেখা হচ্ছে। জাতিসংঘের এবারের সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যু ও উত্তর কোরিয়ার পরমাণু হুমকি প্রাধান্য পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের সম্মেলনের ফাঁকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগানও রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি বৈঠকে আয়োজন করেছেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাজ্য এখন পর্যন্ত জোরালো অবস্থান নেয়নি। জনসন এর আগে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা বন্ধে অং সান সুচির নৈতিক কর্তৃত্বকে কাজে লাগাতে হবে।

Editor- Sayed Mohammad SHAKIL.
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী