সংবাদ শিরোনাম

রোহিঙ্গাদের ঠ্যাঙ্গারচরে স্থানান্তরের চিন্তা সরকারের কক্সবাজারে ত্রাণ কার্যক্রমে নামছে সেনাবাহিনী

হত্যা-নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে সরিয়ে নোয়াখালীর ঠ্যাঙ্গারচরে স্থানান্তরের বিষয়ে ভাবছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। এতে কক্সবাজারের পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। ঠ্যাঙ্গারচরে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট মহলকে জাতিসংঘ সফরে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে দুই-একদিনের মধ্যেই কক্সবাজারে পৌঁছে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ সরবরাহ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম তদারক করবে সেনাবাহিনী।

এ বিষয়ে গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা হাজারো রোহিঙ্গার মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও শরণার্থী শিবির নির্মাণে কাজ করতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। আর্ন্তজাতিক একটি গণমাধ্যমকে কাদের বলেন, কক্সবাজারে মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকায় শিগগির সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। গত ২৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে প্রায় চার লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। সেনাসদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসনে সহযোগিতা করবেন। তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের থাকার জন্য আশ্রয় নির্মাণ খুবই কষ্টকর কাজ। এই কাজের জন্য এবং তাদের শৌচাগার নির্মাণ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী প্রয়োজন। আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য এবং সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী আমাদের সময়ের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে স্থানান্তরের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঠ্যাঙ্গারচরের উঁচু স্থানে যেখানে পানি ওঠে না, এমন জায়াগায় রোহিঙ্গাদের বসবাসের জন্য তাঁবুসহ বাসস্থান নির্মাণ শুরু করা উচিত। ভ্রমণ-পিপাসুদের শহর কক্সবাজারের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য তাদের স্থান্তান্তর করা হবে। ঠ্যাঙ্গারচর বসবাসের উপযোগী হলে রোহিঙ্গাদের একটা বড় অংশ সেখানে স্থানান্তর করা হবে। আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর এক সদস্য জানান, নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ঠ্যাঙ্গারচরে ইতোমধ্যে কিছু অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। রোহিঙ্গাদের নাম-পরিচয় নিবন্ধনের কাজ চলছে। নিবন্ধন শেষে তাদের সেখানে স্থানান্তর করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে সরকারের। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঠ্যাঙ্গারচরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাঁবু নির্মাণ করছেন। দুই-একদিনের মধ্যে সশস্ত্রবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকতাদের একটি দল সেখানে পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে। মূলত তাদের বিশ্রামের জন্য তাঁবু নির্মাণ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারেক সিদ্দিকী আজ ঠ্যাংগারচর পরিদর্শনে যাবেন। অন্যদিকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী অধ্যুষিত এলাকায় সেনাবাহিনীর সহায়তার বিষয়ে জানতে চাইলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ রাশিদুল হাসান গতকাল সন্ধ্যায় আমাদের সময়কে বলেন, এ বিষয়ে প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের রামু সেনানিবাসে ইতোমধ্যে রেকি শুরু করেছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। আজ বৃহস্পতিবার অথবা আগামীকাল শুক্রবারের মধ্যে রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের দিকে রওয়ানা হবেন তারা। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঠ্যাঙ্গারচরে স্থানান্তরের বিষয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকরদের মধ্যে ভাবনা শুরু হয়। ফেব্রুয়ারিতেই ঠ্যাঙ্গারচর এলাকা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল জয়নাল আবেদীন। তিনি ওই চরে দ্রুত একটি হেলিপ্যাড নির্মাণ, একটি জেটি নির্মাণ, গভীর নলকূপ নির্মাণসহ নানাবিধ বিষয়ে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনা দেন। শুধু তা-ই নয়, রোহিঙ্গাদের ঠ্যাঙ্গারচরে স্থানান্তরের বিষয়ে জনমত গড়ে তুলতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন দূতাবাসের প্রতিনিধিদের এ বিষয়ে জানানো হয়। জনমানবহীন ওই দ্বীপে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পক্ষে-বিপক্ষে মত দেন অনেকেই।

Editor- Sayed Mohammad SHAKIL.
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী