সংবাদ শিরোনাম

রোহিঙ্গাদের কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে কক্সবাজার সংক্রামক রোগের জীবাণু বয়ে আনছে

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি এবং কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই ঢুকছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতন অব্যাহত থাকায় শরণার্থী শিবিরগুলোর পরিধি প্রতিদিনই বড় হচ্ছে। বিপুল জনসংখ্যার চাপে কক্সবাজারবাসি যখন পিষ্ট, তখন রোহিঙ্গা স্রোত কক্সবাজারবাসির জন্য স্থায়ী এক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অস্বাভাবিক ভাবে রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে কক্সবাজার জেলার ২৬ লাখের অধিক মানুষ। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অনেকেই নানা ধরনের ছোঁয়াচে রোগব্যাধিতে আক্রান্ত। বিশেষ করে টিকা বিহীন অসংখ্য রোহিঙ্গা নর-নারী, বয়োবৃদ্ধ ও শিশু উখিয়া টেকনাফে অবস্থানসহ রোহিঙ্গাদের বিশাল একটি অংশ বিছিন্ন ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় তাদের কারণে কক্সবাজারের স্থানীয়দের স্বাস্থ্য ঝুকির আশংকা রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ করায় পানি বাহিত অনেক রোগ ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন অনেকেই।


তবে ইতিমধ্যে রোহিঙ্গা শিশুদের টিকার আওতায় আনার কর্মসূচী চালিয়ে যাচ্ছে কক্সবাজারের স্বাস্থ্য বিভাগ। এজন্য সরকার কাজ শুরু করে দিয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মেডিকেল টিম কাজ করছে। এতে সহায়তা করছে জাতিসংঘসহ দেশি-বিদেশি এনজিও । প্রায় দেড় লাখের বেশি শিশুকে হামের ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। এক লাখের বেশি শিশুকে রুবেলার টিকা দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে পোলিও না থাকলেও মিয়ানমারে পোলিও থাকায় এ রোগের ভ্যাকসিনও খাওয়ানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১৯ জন ‘এইডস’ রোগী শনাক্ত করা গেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া সাড়ে ছয় লাখ ভ্যাকসিন (টিকা) দেওয়া হচ্ছে রোহিঙ্গাদের। রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে বাহিত রোগবালাই সারাদেশের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে সংক্রামক রোগে আক্রান্তের হার অনেক বেশি। দ্রুত তা মহামারীতে মোড় নিতে পারে। রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচল ও স্থানান্তরের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারাও এ ঝুঁকির বাইরে নয়। বাংলাদেশ পোলিও মুক্ত ঘোষণা করা হলেও বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়েছে কক্সবাজারে। তবে ঝুঁকি কমাতে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
বর্তমানে উখিয়া টেকনাফে প্রায় ৫ লাখের অধিক রোহিঙ্গা অবস্থান করছে যাদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী ও শিশু। আর এসব নারী শিশুদের মধ্যে বেশির ভাগই পূর্বে হাম, রুবেলা, কলেরা, পোলিও সহ অন্যান্য জটিল রোগের টিকা দেওয়া হয় নি। যার ফলে বর্তমানে কক্সবাজারের মানুষ স্বাস্থ্য ঝুকির মধ্যে আছে। সামাজিক উন্নয়নের সব সূচকেই তলানিতে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ। মৌলিক স্বাস্থ্য সুবিধা সেখানে নেই বললেই চলে। সংক্রামক রোগের টিকা বা প্রতিষেধকও প্রায় পায় না অপুষ্টিতে ভোগা রোহিঙ্গা শিশুরা। ফলে হাম, যক্ষ্মার মতো সংক্রামক রোগের জীবাণু সঙ্গে করেই বড় হয় এসব শিশু। এসব নিয়েই বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে রাখাইন থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গারা। বাংলাদেশে প্রবেশকারী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অধিকাংশই সহিংসতাজনিত আঘাতে ভুগছে। ভুগছে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ ও জন্মগত জটিলতায়ও। দারিদ্র্য ও অশিক্ষার ফলে মিয়ানমারের বাসিন্দাদের মধ্যে যক্ষ্মার প্রাদুর্ভাব এমনিতেই একটু বেশি। এছাড়া সাম্প্রতিক সহিংসতায় মারাত্মক যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে রোহিঙ্গাদের অনেকেই। ফলে ক্যাম্পগুলোয় এইচআইভির সংক্রমণ ছড়ানোরও যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে হেপাটাইটিস ই, লেপ্টোস্পিরোসিস (কুকুর-বিড়ালের দেহ থেকে মানবদেহে সংক্রমিত এক ধরনের রোগ), ক্রিমিয়ান কঙ্গো হেমোরোজিক ফিভার (কঙ্গো জ্বর), ম্যালেরিয়া ইত্যাদি রোগ ছড়ানোর শঙ্কার কথাও জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প মেডিকেল কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমরা প্রতিদিন ২৫০-৩০০ জন রোহিঙ্গাকে চিকিৎসা দিয়ে থাকি। তাদের জ্বর, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কলেরা, যক্ষা, ম্যালেরিয়া, হাম, রুবেলা, চর্মরোগ, প্রজননতন্ত্রের ইনফেকশন, আমাশয়, পায়খানার সঙ্গে রক্ত ঝরা ইত্যাদি তো আছেই। আছে গনোরিয়া, সিফিলিসসহ বিভিন্ন ধরনের যৌন রোগও। এর মধ্যে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রোহিঙ্গাদের রক্ত পরীক্ষা করে পাওয়া গেছে এইচআইভি (এইডস) রোগীও।


সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এখন পর্যন্ত সোয়া ২ লাখের মতো রোহিঙ্গাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৫৮ ভাগের বয়স ১৮ বছরের নিচে। ২৯ ভাগেরই বয়স পাঁচ বছরের নিচে। পুরুষদের মধ্যে পাঁচ বছরের নিচে আছে ১৪ ভাগ। ছয় থেকে ১৭ বছর বয়সের মধ্যে আছে ১৪ ভাগ। ১৮ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে আছে ১৭ ভাগ। ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে আছে দুই ভাগ রোহিঙ্গা। নারীদের মধ্যে পাঁচ বছরের নিচে আছে ১৫ ভাগ। ছয় থেকে ১৭ বছরের মধ্যে আছে ১৫ ভাগ। ১৮ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে আছে ২১ ভাগ। বয়স নির্বিশেষে এই রোহিঙ্গাদের প্রত্যেকেই চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচল ও এক শিবির থেকে অন্য শিবিরে স্থানান্তরের কারণে এসব সংক্রামক রোগ দ্রুত মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ শঙ্কার হাত থেকে মুক্ত নয় কক্সবাজারের স্থানীয়রাও। আবার পরিচয় গোপন করে কিছু রোহিঙ্গার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাওয়ারও প্রমণও পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টিকে দ্রুত সামাল দিতে না পারলে এ মানবিক সংকট একই সঙ্গে দেশের জন্য সার্বিক স্বাস্থ্যগত এক বড় সংকটও হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।
হ্নীলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, যেভাবে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে, তাতে এ অঞ্চলের মানুষ খুবই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে। এরই মধ্যে টেকনাফের লোকজনের মধ্যে জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া দেখা দিয়েছে। কলেরা ও রুবেলাসহ অন্যসব রোগ ছড়িয়ে পড়লে ভয়াবহ অবস্থা হবে।
উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী জানান, শরণার্থী শিবিরগুলোতে দ্রুত বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। যার ফল ভোগ করতে হতে পারে স্থানীয়দেরও।
টেকনাফ পৌরসভার মেয়র মোঃ ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গার চাপে বিপর্যস্ত এখন টেকনাফ হাটে মাঠে পাহাড়ে জঙ্গলে সর্বত্র এখন রোহিঙ্গা, তারা রাতে দিনে একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করছে। আমার জানা মতে, টেকনাফসহ কক্সবাজার নিরাপদ স্বাস্থ্য সেবাতে ছিল। কিন্তু এখন কয়েক লাখ রোহিঙ্গার কারণে আবারো আমরা স্বাস্থ্য ঝুকিতে পড়বো। রোহিঙ্গারা কোন ধরনের স্বাস্থ্য সেবা বা টিকাদান কর্মসূচীর আওতার মধ্যে ছিল না।
রোহিঙ্গা বস্তির আমেনা বেগম জানান, পানি ও খাবারের অভাবে তার পরিবারে চার শিশু বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। এ সময় তিন বছর বয়সী শিশু আছিফাকে নিয়ে মা শরিয়া বেগম কাঁদতে কাঁদতে জানান, তিন দিন ধরে তার মেয়ে জ্বর ও ডায়রিয়ায় ভুগছে।

উখিয়ার কুতুপালং শরনার্থী শিবিরে ৩ দিন আগে মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা নারী জান্নাত আরা। তার সাথে আছে ১ টি ৫ বছরের ছেলে শিশু আরেকটি দেড় বছরের মেয়ে শিশু।
জানতে চাইলে জান্নাত আরা বলেন, টিকা কি জিনিস সেটা তিনি জানেন না। আগে কোন দিন শিশুদের টিকা দেওয়া হয় নি। এমনকি হাম, রুবেলা সহ পোলিও টিকা বিষয়ে জানেন না তিনি।
উখিয়ার বালুখালী হাতির ডেরা ও তাজনিরমার খোলা এলাকায় আশ্রয় নেয়া কয়েকজন রোহিঙ্গা জানান, পার্শ্ববর্তী গ্রামের বসতবাড়িতে টিউবওয়েল থাকলেও রোহিঙ্গাদের চাহিদা বেশি থাকার কারণে ঠিকমতো পানি পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে রোহিঙ্গা নারীরা খাল ও ছরার পানি দিয়ে প্রয়োজনীয় কাজকর্ম সারছেন। এর ফলে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে হচ্ছে তাদের।
আলাপকালে কক্সবাজার জেলা বিএমএর সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মাহাবুবুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যে মায়ানমার থেকে আসা বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য একটি বিশাল স্বাস্থ্য ঝুকির কারণ। তারা অতীতে কোন সময় টিকা, স্যানিটেশন, বা অন্যান্য স্বাস্থ্য বিধি বিষয়ে জানে না, তারা সামাজিক যে অনেক অপরাধ করবে সেটা বাদ দিলেও রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয় জনগোষ্ঠি চরম স্বাস্থ্য ঝুকিতে থাকবে এটা নিশ্চিত। আমাদের দেশে টিকা জনিত যে সব রোগ নিরাময় করা যায় সে সব রোগ থেকে শতভাগ নিরাপদ আছি কিন্তু এখন রোহিঙ্গাদের কারণে আমরা অনিরাপদ হয়ে গেলাম। তাই এবিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী বলে মনে করেন তিনি।
উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মেজবাহ উদ্দিন আহামদ বলেন, স্বাস্থ্য ঝুকির কথা চিন্তা করে ইতিমধ্যে কুতুপালং ক্যাম্পে ৫ বছরের নীচে যে সমস্ত শিশু আছে তাদের টিকার আওতায় আনা হচ্ছে, তবে সমস্যা হচ্ছে সবাইকে এক জায়গায় পাওয়া যায় না। অনেকে এখনো ভাসমান অবস্থায় আছে তাদের মাধ্যমে ঝুকির বিষয়টা রয়েই যায়। তবে আমরা চেস্টা করছি সবাইকে টিকার আওতায় আনার জন্য।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডা. আবদুস সালাম বলেন, এ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১৯ জন ‘এইডস’ রোগী শনাক্ত করা গেছে। গত কিছুদিন আগে এ রোগে আক্রান্ত এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত ওই নাগরিকদের মধ্যে কলেরা রোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। কলেরা একটি সংক্রামক রোগ। এই রোগ দেখা দিলে তা স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।


স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের বিপদ না হলেও স্বাস্থ্য ঝুঁকির ভয় বা শঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যাবে না। কারণ অসচেতন রোহিঙ্গারা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের কারণে সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইতিমধ্যে বেশ কজন এইডআইভি এইডসে আক্রান্ত হওয়া রোহিঙ্গা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।
রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিতে হবে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা। মনে রাখা জরুরি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্বাথ্যকর্মী ও এনজিওগুলো এ ব্যাপারে যথাযথ ভূমিকা পালন করলেই কেবল ঝুঁকি মোকাবেলা করা সহজতর হবে।
পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে সুরক্ষা দিতে দশ লাখের অধিক রোহিঙ্গাদের এক জায়গায় নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার দাবি কক্সবাজারবাসীর।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Editor- Sayed Mohammad SHAKIL.
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী