সংবাদ শিরোনাম

বিদেশে পুনঃবীমায় ২০% প্রিমিয়াম বেড়েছে

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্ঘটনা ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা বেড়ে চলেছে। এতে বৈশ্বিক বীমা কোম্পানিগুলোয় বীমা দাবি পরিশোধের চাপও বেড়েছে। এ অবস্থায় প্রিমিয়ামের পরিমাণও বাড়িয়ে দিয়েছে বিদেশী বীমা কোম্পানিগুলো। আর এতে বিপাকে পড়েছে বিদেশে পুনঃবীমাকারী দেশের সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলো।

জানা গেছে, গত এক বছরে বিদেশে পুনঃবীমা প্রিমিয়াম বেড়েছে ২০ শতাংশ। ব্যবসা না থাকায় বাড়তি এ প্রিমিয়াম পরিশোধে হিমশিম খেতে হচ্ছে দেশের বহু সাধারণ বীমা কোম্পানিকে। কারণ সাধারণ বীমা খাতের বড় কোম্পানিগুলোকে তাদের মোট ঝুঁকির প্রায় ৪০ শতাংশ বিদেশী কোম্পানিতে পুনঃবীমা করতে হয়। আর এ প্রক্রিয়ায় প্রিমিয়াম পরিশোধসহ যেকোনো অসঙ্গতি চিহ্নিত হলেই দাবি পরিশোধ করে না বিদেশী পুনঃবীমা কোম্পানিগুলো।

পাইওনিয়ার, গ্রীন ডেল্টা, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের মতো বড় সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলো তাদের মোট ঝুঁকির কিছু অংশ বিভিন্ন বহুজাতিক পুনঃবীমা প্রতিষ্ঠানে করে থাকে। এসব বহুজাতিক পুনঃবীমা প্র্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে— সুইস রি, মিউনিখ রি, জিআইসি রি, নিউ ইন্ডিয়া অ্যাশিউরেন্স, ন্যাশনাল ইন্ডিয়া, ওরিয়েন্টাল ইন্ডিয়া ইত্যাদি। আইন অনুযায়ী ৫০ শতাংশ ঝুঁকির পুনঃবীমা রাষ্ট্রায়ত্ত সাধারণ বীমা করপোরেশনে (এসবিসি) করার নিয়ম রয়েছে। তবে পুনঃবীমা প্রক্রিয়ায় আগের চেয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এসবিসি। কারণ এসবিসিকেও তাদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঝুঁকির পুনঃবীমা বিদেশী এসব প্রতিষ্ঠানেই করতে হয়।

এসবিসি বলছে, বিদেশী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোয় দাবি আদায়ের চাপ বিগত বছরগুলোর তুলনায় কয়েক গুণ বেড়েছে। তাই আন্তর্জাতিক নিয়মে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন না হলে দাবি পরিশোধ করছে না তারা। নীতিমালা না থাকায় এখন এসবিসি নিজস্ব গাইড অনুযায়ী পুনঃবীমা প্রিমিয়াম ও দাবি পরিশোধের যাবতীয় কাগজপত্র সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে নিচ্ছে। এছাড়া বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছেও এ-সংক্রান্ত শক্ত নীতিমালা প্রণয়নের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে এসবিসির পক্ষ থেকে।

এ বিষয়ে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ভারত ছাড়াও ইন্স্যুরেন্সের সবচেয়ে বড় বাজার লয়েডস মার্কেটের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমরা ব্যবসা করি। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা সামলাতে প্রিমিয়াম বাড়িয়ে দিয়েছে বিদেশী পুনঃবীমা কোম্পানিগুলো। ধারণা করা হচ্ছে, সামনের বছর পুনঃবীমা প্রিমিয়াম আরো বাড়বে। বৈশ্বিক বীমাবাজারের এ অস্থিরতার প্রভাব প্রকটভাবে পড়েছে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের বীমা কোম্পানিগুলোর ওপর।

জানা যায়, চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে বহুজাতিক বহু ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করছে। গত মাসে আবুধাবিতে অবস্থিত কাতার ইন্স্যুরেন্সের শাখা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। কারণ হিসেবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বলছে, এ অঞ্চলের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কাতার ইন্স্যুরেন্সের পক্ষে আবুধাবি শাখার লাইসেন্স নবায়ন করা সম্ভব নয়। গত ৫ জুন থেকে কাতারের সঙ্গে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর ও বাহরাইন তাদের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পরই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কোম্পানির বিবৃতিতে বলা হয়, আবুধাবিতে ২০০২ সাল থেকে শাখা খুলে ব্যবসা পরিচালনা করছে কাতার ইন্স্যুরেন্স। প্রতি বছর প্রায় ১১০ মিলিয়ন রিয়াল (৩০ দশমিক ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) গ্রস প্রিমিয়াম অবলিখন করে কোম্পানিটি।

এদিকে ইউরোপের সাম্প্রতিক বন্যায় দাবি পরিশোধের চাপে পড়েছে ওই অঞ্চলের বীমা কোম্পানিগুলো। বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গেছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি জার্মানি ও ফ্রান্সে। ৩৫ বছরের মধ্যে ফ্রান্সে এত ভয়াবহ বন্যা কেউ দেখেনি। এদিকে ভারতে সাম্প্রতিক কালের বন্যায় ৩০ হাজার কোটি রুপিরও বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বীমা কোম্পানিগুলো। এ অবস্থায় পুনঃবীমা প্রিমিয়াম বাড়ানোর চাপ দেশের কোম্পানিগুলোর ওপরও পড়ছে।

এ প্রসঙ্গে এসবিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সমস্যা মনে করলে সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলো এসবিসির সঙ্গে পুনঃবীমা চুক্তি করতে পারে। তাহলে দেশের অর্থ দেশেই থাকবে এবং কোম্পানিগুলোর ব্যয়ও অনেক কমবে।

Editor- Sayed Mohammad SHAKIL.
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী