সংবাদ শিরোনাম

‘বাংলাদেশি’ বিদায় করতে চায় উত্তর প্রদেশ

‘বাংলাদেশি’দের চিহ্নিত করে উত্তর প্রদেশ থেকে তাদের বের করে দিতে চায় ভারতে সবচেয়ে বড় এই রাজ্যটির সরকার। বিজেপির যোগী আদিত্যনাথ সরকারের মন্ত্রিসভায় ইতিমধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

ভারতের ৩৬টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে জনসংখ্যার দিক থেকে বৃহত্তম রাজ্য উত্তর প্রদেশ। উত্তর প্রদেশে প্রচুর বাঙালির বাস রয়েছে। ভারতের সবচেয়ে বেশি বাঙালির বাস পশ্চিমবঙ্গে। এরপর ত্রিপুরা, আসাম, ঝাড়খন্ড ও ওডিশায়। তবে প্রতিটি রাজ্যেই কমবেশি বাঙালি রয়েছে। আসাম সরকার তাদের রাজ্য থেকে ৩০ লাখ বাঙালি বিতাড়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

উত্তর প্রদেশের রাজ্য সরকারের দাবি, তাদের রাজ্যে আট লাখ বাংলাদেশি রয়েছে। তাদের উৎখাত করার লক্ষ্যে প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারদের বাংলাদেশিদের তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে, এই বাংলাদেশিদের চিহ্নিতকরণ কাজ শুরু হচ্ছে। সেই তালিকা তৈরি করে পাঠানো হবে রাজ্য সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে। এরপরই এদের বিতাড়নের উদ্যোগ নেবে সরকার। এই প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগবে আগামী বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত।

তবে উত্তর প্রদেশের পুলিশের সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমে এ কথাও বলা হয়েছে, এই চিহ্নিতকরণ কাজ অত্যন্ত কঠিন। কারণ, উত্তর প্রদেশে রয়েছে প্রচুর বাঙালির বাস। এদের রয়েছে ভোটার পরিচয়পত্রসহ আঁধার কার্ডও। তাই ভারতীয় যেসব বাঙালি উত্তর প্রদেশে কয়েক দশক ধরে বাস করছে, তাদের তো পুলিশ বাংলাদেশি তকমা লাগিয়ে হেনস্তা করতে পারে। কারণ, কারওর আঁধার কার্ড বা ভোটার পরিচয়পত্রে বাংলাদেশি বলে কোনো কথা নেই। মুখের ভাষাই মূল কথা। তাই উত্তর প্রদেশের বাঙালিদের মধ্যে ইতিমধ্যে এই আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়েছে, এই বাংলাদেশি চিহ্নিতকরণের নামে বাংলাভাষী ভারতীয়রাও যেন হেনস্তার শিকার না হয়। কারণ, উত্তর প্রদেশ হিন্দি ভাষাভাষী রাজ্য। এখানের অধিকাংশ পুলিশও বাংলা ভাষা জানেন না। ফলে তাদের পক্ষে বাংলাদেশি চিহ্নিতকরণ কাজ কঠিন হয়ে পড়বে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ৭ মে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত এবং নদীয়ার কৃষ্ণনগরে জনসভায় বিজেপি প্রার্থী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ‘শরণার্থীরা আমার পরিবার। তাঁরা এখানে থাকবেন। ফিরে যেতে হবে অনুপ্রবেশকারীদের।’

যদিও ২০০৫ সালে ইউপিএ সরকারের আমলে বিরোধীদলীয় ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন। এই দাবিতে মমতা লোকসভায় সোচ্চারও হন। মমতা অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা তৈরি করে তা সংসদে পেশ করার জন্য সংসদে দাবি জানালে সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছিলেন লোকসভার তৎকালীন ডেপুটি স্পিকার চরণজিৎ সিং। এ সময় উত্তেজিত মমতা ডেপুটি স্পিকারের দিকে ছুড়ে মেরেছিলেন ওই তালিকাসংবলিত ফাইল এবং চাদর। মমতার সেদিন অভিযোগ ছিল, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করছে শাসক বামফ্রন্ট সরকার। তারাই অনুপ্রবেশকারীদের রেশন কার্ড, ভোটার কার্ডসহ একাধিক সুযোগ-সুবিধাও করে দিয়েছে।

Editor- Sayed Mohammad SHAKIL.
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী