সংবাদ শিরোনাম

নো ম্যান’স ল্যান্ডে আটকা পড়া রোহিঙ্গারা এখন ক্যাম্পে

উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত পয়েন্টের নো ম্যান’স ল্যান্ডে আটকা পড়া রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন ক্যাম্পে আনা হয়েছে। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় এসব রোহিঙ্গাকে উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালীর ক্যাম্পে আনা শুরু হয়। নতুন করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী নির্যাতন শুরু করলে গত রোববার থেকে এসব রোহিঙ্গা রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত পয়েন্টের নো ম্যান’স ল্যান্ডে এসে আশ্রয় নেয়।

এর আগে আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত পয়েন্টের নো ম্যান’স ল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ সীমানার অন্তত পাঁচ কিলোমিটার ভেতরে এসে অবস্থান নেয় রোহিঙ্গারা। ওই সময় তাদের বাধা দেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা। তবু রোহিঙ্গাদের অনেকেই ঢুকে পড়ে উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে। আর যারা এখনো নো ম্যান’স ল্যান্ডে অবস্থান করছে, তারা আছে খাদ্য সংকটে। অবশ্য বেসরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাদের মাঝে কিছু খাবার ও ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।

বিজিবি ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বলছে, উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুুমানপাড়া সীমান্ত পয়েন্টের নো ম্যান’স ল্যান্ডে এ মুহূর্তে অন্তত ২০ হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। আর গত দুই দিনে আঞ্জুমানপাড়াসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ১৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নতুন করে দমন-পীড়ন বেড়ে যাওয়ায় তারা পালাতে শুরু করেছে।

গতকাল দুপুরে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আসা রোহিঙ্গা আবুল কালাম, কাদের হোসেন ও হামিদা খাতুন জানান, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে সীমান্তে নো ম্যান’স ল্যান্ডে চারদিন অবস্থান করার পর বিজিবি গাড়িতে করে তাদের ক্যাম্পে নিয়ে আসে।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলছে, রাখাইনে নতুন করে তাণ্ডব চালাচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও মগরা। যে মুসলিম রোহিঙ্গারা এখনো রাখাইনে রয়ে গেছে, তাদের বর্মি ভাষায় বাঙালি লেখা কার্ড নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। কেউ কার্ড নিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মেরে ফেলা হচ্ছে। সেনাবাহিনী ও মগদের হামলায় গত রোববার থেকে রাখাইনের বুচদিংয়ের ১৪টি গ্রামে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাই তারা দলে দলে এ দেশে আসতে বাধ্য হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিজিবির দায়িত্বরত সদস্যরা জানান, ওপরের নির্দেশে এসব রোহিঙ্গাকে তল্লাশি ও কলেরা টিকা খাওয়ানোর পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠানো হয়।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান বলেন, আটকে পড়া রোহিঙ্গাদের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আনা হচ্ছে। নির্ধারিত জমিতে মানবিক সহায়তা দিয়ে তাদের সরকারিভাবে নির্মিত ঘরগুলোয় রাখা হবে। তাদের সবাইকে ত্রাণের আওতায়ও নিয়ে আসা হবে। ঠিক কতজন রোহিঙ্গাকে নিয়ে আসা হচ্ছে, তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান দিতে পারেননি এ কর্মকর্তা।

এর আগে ৫ লাখ ৩৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসে। নতুন করে আসা রোহিঙ্গাসহ মোট অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গার সংখ্যা ৫ লাখ ৫২ হাজার।

Editor- Sayed Mohammad SHAKIL.
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী