সংবাদ শিরোনাম

আড়াই কোটি লিটারের ট্যাংক নির্মাণ করা হচ্ছে

পানি নিয়ে হালিশহরবাসীর ভাবনা দীর্ঘদিনের। সেই কষ্ট এবার দূর হতে যাচ্ছে। কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পের ফেইজ-২ এর আওতায় চট্টগ্রাম ওয়াসা এখানে নির্মাণ করছে প্রায় আড়াই কোটি লিটার ধারণক্ষমতার ট্যাংক। আগামী বছর এর কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
জানা যায়, আজকের ওয়াসা ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে হালিশহর এলাকায় (বর্তমান হালিশহর এ ব্লক বাদামতলের পাশে) নির্মিত হয় এক লাখ লিটার ধারণক্ষমতার ওভারহেড ট্যাংক। ৬ ইঞ্চি ব্যাসের একটি পাইপ দিয়ে প্রায় ১০০ ফুট উঁচু এই ট্যাংকে পানি জমা হতো এবং ৬ ইঞ্চি ব্যাসের অপর একটি লাইন দিয়ে পানি সরবরাহ হতো হালিশহর এলাকায়। ১৯৮৫ সালে তা পরিত্যাক্ত হওয়ার পর বন্ধ হয়ে যায় এই পদ্ধতি। এখন আবার সচল হতে যাচ্ছে এই ট্যাংক, আরো নতুন করে আধুনিক সুযোগ সুবিধা নিয়ে।
আজকের গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীনে চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ আবাসন প্রকল্প হালিশহর হাউজিং এস্টেটে ১৯৬৩ সালে প্লট বরাদ্দ দেয়ার পর থেকে এই এলাকায় পানি সরবরাহ হতো হালিশহর পানির ট্যাংক থেকে। কিন্তু ১৯৮৫ সালের পর থেকে এই ট্যাংক অকার্যকর হয়ে যায় এবং এর পর থেকেই পানির কষ্টে ভুগতে থাকে হালিশহরবাসী এবং আজো তা বিদ্যমান। তবে এবার হয়তো হালিশহরবাসীর পানির কষ্টের অবসান হতে যাচ্ছে।
১৯৬৩ সালে জন্মের পর থেকে এখন পর্যন্ত হালিশহর বি ব্লক এলাকায় বসবাস করা আনন্দ পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা সোহেল আকতার খান বলেন, ‘১৯৮৫ সাল পর্যন্ত আমরা এই ট্যাংক থেকে নিয়মিত পানি পেতাম। এই ট্যাংক থেকে বিভিন্ন ভ্যান্ডররা গাড়ি করে বিভিন্ন স্থানে পানি নিয়ে যেতো। তবে ৮৫ সালে তা বিকল হওয়ার পর থেকে পানি দুর্ভোগে হালিশহরবাসী।‘
ওয়াসার একাধিক প্রকৌশলীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ওয়াসা প্রতিষ্ঠার আগে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর নগরীতে পানি সরবরাহ করতো। ১৯৬১ সালে দামপাড়ায় তিনটি গভীর নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পানি সরবরাহ করতো। ১৯৬৩ সালে ওয়াসা প্রতিষ্ঠার পর এগুলো ওয়াসার আওতায় চলে আসে। একইভাবে হালিশহর ওভারহেড ট্যাংকও ওয়াসার আওতায় আসে। কিন্তু পাকিস্তান আমলে নির্মিত সেই ট্যাংকটি জরাজীর্ণ হয়ে যাওয়ায় তা লিকেজ হয়ে পানি পড়তে থাকে। এক পর্যায়ে ১৯৮৫ সালে তা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ১৯৮৫ এর পর থেকে ওয়াসার মেইন লাইন থেকে পানি হালিশহর এলাকায় সরবরাহ করা হতো। আর এতেই শুরু হয় পানির কষ্ট। হালিশহরবাসীর চাহিদা অনুযায়ী পানি সরবরাহ করা যেত না বলে পানির দুর্ভোগ এখনো লেগেই রয়েছে।
কবে তা ভাঙ্গা হয়েছে জানতে চাইলে ওয়াসার কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প ফেইজ-২ এর উপ-প্রকল্প পরিচালক ও ওয়াসার তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, ‘ওভারহেড ট্যাংকটি থেকে বিভিন্ন সময়ে উপর থেকে ট্যাংকের বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়তো। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে সেই আশঙ্কায় ২০১০ সালের দিকে তা ভাঙ্গা হয়। বর্তমানে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পের ফেইজ-২ এর আওতায় তা নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে।
নতুন নির্মাণ হতে যাওয়া ট্যাংকটি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে ৬ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ দিয়ে ট্যাংকটিতে ১ লাখ লিটার পানি জমার পর তা একই ব্যাসের পাইপ দিয়ে বিতরণ হতো। এখন এর ব্যাস আরো বাড়িয়ে ৪ ফুট করা হয়েছে। আর ৪ ফুট ব্যাসের পানি দিয়ে এক প্রান্ত থেকে পানি উঠবে ও অপর প্রান্ত দিয়ে পানি নেমে যাবে। দুটি ২৪ ঘণ্টা সচল থাকবে। ট্যাংকের ধারণ ক্ষমতা হবে ২ কোটি ৪০ লাখ লিটার।
এই পানি কোথা থেকে আসবে জানতে চাইলে প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প থেকে পানি এসে জমা হবে নাসিরাবাদ রিজার্ভারে। সেখান থেকে ৪ ফুটের একটি এক্সপ্রেস লাইনে সরাসরি পানি আসবে হালিশহর ট্যাংকে। আর এই ট্যাংক থেকে পুরো হালিশহর, দক্ষিণ কাট্টলী, আগ্রাবাদসহ আশপাশের এলাকায় পানি সরবরাহ করা হবে।
কবে নাগাদ এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জাইকার (জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি) অর্থায়নে নির্মাণ হতে যাওয়া ট্যাংকের নির্মাণ কাজ আগামী বছরের জুনে শেষ হতে পারে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ২০১৯ সালে হয়তো এই ট্যাংক থেকে পানি সরবরাহ করা যাবে। আর সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১১৫ ফুট উপর থেকে পানি সরবরাহ করা হবে বলে বিশাল বেগে পানি প্রবাহিত হবে।
উল্লেখ্য, কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পের প্রথম পর্যায় চালু হওয়ার পরও নগরীতে পানি সঙ্কট কাটছে না। ওয়াসা এতোদিন মোহরা পানি সরবরাহ প্রকল্প ও নগরীর ৯৭টি গভীর নলকূপ থেকে নগরবাসীর চাহিদার এক তৃতীয়াংশ পানি সরবরাহ করতো। কিন্তু কর্ণফুলী চালু হওয়ার পর গভীর নলকূপের সংখ্যা কমিয়ে ৭৬টিতে নিয়ে আসা হয়েছে।

Editor- Sayed Mohammad SHAKIL.
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী